প্রত্যাশা বনাম চ্যালেঞ্জের বাজেট আজ
প্রত্যাশা আর চ্যালেঞ্জের সমীকরণ সামনে রেখেই আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণে মানুষের প্রত্যাশা যেমন অনেক, তেমনি রাজস্ব আহরণ, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা এবং অর্থায়নের মতো বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে সরকারের সামনে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য এই বাজেট দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট হতে যাচ্ছে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রত্যাশার কতটা পূরণ হবে আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর পদক্ষেপ আসবে।
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই বিশাল বাজেট তৈরি করেছে সরকার। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় পরিকল্পনা প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাচ্ছে। তবে এত বড় বাজেটের সঙ্গে বড় আকারের অর্থ ঘাটতির আশঙ্কাও রয়েছে। এই অর্থ জোগাড় করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর এটি তাদের প্রথম বাজেট। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এবার অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দুই খাতেই সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়া।
প্রস্তাবিত বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।
এদিকে স্বাস্থ্যসেবার আওতা বাড়াতে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নতুন কয়েকটি কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দও বাড়ানো হতে পারে।
বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম আরও বেশি অনলাইনে আনার উদ্যোগও রয়েছে। অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব আসতে পারে।
এদিকে চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে আগামী অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাদের অভিমত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
অ্যালকোহল: দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।
সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্য: সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব আসতে পারে। সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
রড: মাইল্ড স্টিল (এমএস) ও এ জাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। ফলে রডের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিলাসী ও আমদানি পণ্য: বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসী পণ্য, আমদানিকৃত উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য এবং নতুন ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব আসতে পারে, যা এসব পণ্যের মূল্য বাড়াতে পারে।
হিমায়িত মাছ ও কাজুবাদাম: উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে কাজুবাদাম আমদানির শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে উভয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য: চাল, ধান, গম, ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব আসতে পারে। পাশাপাশি এসব পণ্যের রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যে ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ বা ১ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হয়।
চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ: কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর থাকা ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হতে পারে। এতে প্রতি ডায়ালাইসিসে রোগীদের খরচ প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। ওষুধ উৎপাদনের ৬৮টি কাঁচামালের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির ৯টি কাঁচামালে কর রেয়াত দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর থাকা ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।
ভোজ্যতেল: দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১০ বছরের জন্য শূন্য শতাংশ কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভোজ্যতেলের দাম কমতে পারে।
জ্বালানি তেল: রিফাইনারি থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে।
মোবাইল ফোন ও টেলিযোগাযোগ খাত: স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২টি কাঁচামালের ওপর উৎসে কর ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। এ খাতে মূসক অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
মোবাইল সিমের ওপর বর্তমান ৩০০ টাকার কর বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি ও চার্জের ওপর ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় উৎসে কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে।
শিল্পের কাঁচামাল: শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। পাশাপাশি রেগুলেটরি শুল্কের স্তর ৯টি থেকে কমিয়ে ৬টিতে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ: বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি এবং সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধিও বহাল থাকতে পারে।
ইলেকট্রিক যানবাহন: ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়ির নিবন্ধনে আগাম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করা হতে পারে। স্থানীয় ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক শিল্পও কর রেয়াত পেতে পারে।
ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য: টেলিভিশন, ফ্রিজ ও কম্পিউটার সামগ্রীর কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল থাকতে পারে। কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এটিএম কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড তৈরির কাঁচামালের ওপর ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার এবং ১১৩টি পণ্যের ওপর থেকে ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বর্ণ: স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হতে পারে। জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে স্বর্ণের দাম কমতে পারে।
অন্যান্য পণ্য ও খাত: বাদ্যযন্ত্র আমদানির ওপর ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার, সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্সের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাতিল এবং ফ্লোট গ্লাস উৎপাদনে ব্যবহৃত ৫টি কাঁচামালের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার করা হতে পারে। প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়ালের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ, পরিবহন ও গাড়ি ভাড়া সেবার উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ এবং রিসাইকেলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের করহার ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও আসতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
