ইডিসিএল কর্মকর্তা মাহবুবা মিতু কে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
ছবি সংগৃহীত
গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অন লাইন নিউজ পোর্টাল ‘দ্য নিউজ ডিজিটাল’ এ ‘ইডিসিএলে দুর্নীতির রাজকন্যা মাহবুবা মিতু:জালিয়াতির পদোন্নতি থেকে কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইডিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহবুবা আক্তার।
এক প্রতিবাদলিপিতে মাহবুবা আক্তার দাবি করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার পদোন্নতি, গাড়ি ব্যবহার, অফিস কক্ষ বরাদ্দ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ওষুধ উৎপাদনসহ যেসব তথ্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো ‘সম্পূর্ণ অসত্য, কাল্পনিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’। তার ভাষ্য, যাচাই-বাছাই ছাড়াই একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে তার বিধিবহির্ভূত পদোন্নতির কথা উল্লেখ করা হলেও ইডিসিএলের নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও তার পদোন্নতি হয়েছে পাঁচ বছর এক মাস পর। নির্ধারিত সময়ের আগে বর্ধিত বেতন-ভাতা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
মাহবুবা আক্তারের দাবি, ইডিসিএল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কর্মকর্তা হিসেবে বিধিবহির্ভূত অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। বাইরে ওষুধ উৎপাদনের দায়িত্বও তার নয় বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ দায়িত্ব মার্কেটিং বিভাগ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্ট বিষয়।
অফিস কক্ষ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ইডিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য একটি অফিস কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। ওই কক্ষেই তিনি দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ করেন। তার জন্য আলাদাভাবে কোনো কক্ষ বরাদ্দ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
পদোন্নতির কার্যকারিতা নিয়ে মাহবুবা আক্তার বলেন, ২০২৫ সালের পদোন্নতির দপ্তর আদেশ পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী তা কার্যকর হওয়ার কথা। অফিস আদেশ অনুযায়ী জুলাই মাস থেকে পদোন্নতি কার্যকর হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি জানান, তিনি নিজে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এবং তার স্বামী একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে তারা একটি পুরোনো/ব্যবহৃত গাড়ি কিনেছেন। গাড়িটির মালিকানা এখনো পরিবর্তন হয়নি এবং হস্তান্তরের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার ছবি ব্যবহার প্রসঙ্গে মাহবুবা আক্তার দাবি করেন, কৃত্রিমভাবে তার ছবি সংযোজন করে একটি ব্যানারসহ মিথ্যা ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি ওই ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে কখনো অংশ নেননি বলেও প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দুই নেতার সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় নেই দাবি করে তিনি বলেন, তার জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুর জেলায়। প্রতিবেদনে যেসব দুই নেতার কথা বলা হয়েছে, তারা ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা।
প্রতিবাদলিপিতে মাহবুবা আক্তার আরও দাবি করেন, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কোনো সাংবাদিক তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ফোনে যোগাযোগ করেননি। তার মতে, এটি সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতার পরিপন্থি।
তিনি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা বজায় রেখে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই পাতায় তার প্রতিবাদলিপি হুবহু প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন।
