ঋণখেলাপি সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল
ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও সিটি গ্রুপকে নতুন করে চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি ধারার বিশেষ অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে গ্রুপটির পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সিন্ডিকেটেড ঋণ সুবিধা দিতে ব্যাংকগুলোর সামনে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
নতুন করে চলতি মূলধন হিসেবে আটটি ব্যাংকের কাছ থেকে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ পেতে যাচ্ছে সিটি গ্রুপ। আগামীকাল ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ঋণচুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে আগামী রোববার থেকে গ্রুপটির চাহিদা অনুযায়ী ঋণের অর্থ ছাড় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। এতে সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সিন্ডিকেটেড চলতি মূলধন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার বিধান থেকে বিশেষ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আইনের ওই ধারা অনুযায়ী, সাধারণত কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ঋণসুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন ও নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে এ বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাশরুর আরেফিন জানান, আগামী রমজানকে সামনে রেখে কাঁচামাল আমদানির জন্য সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার সিন্ডিকেটেড চলতি মূলধন ঋণ দিতে আটটি ব্যাংক সম্মত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঋণের মধ্যে সিটি ব্যাংক দেবে ৩০০ কোটি টাকা। বাকি সাতটি ব্যাংক প্রত্যেকে ২০০ কোটি টাকা করে মোট ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে।
মাশরুর আরেফিন আরও জানান, আগামীকালের মধ্যে সিটি গ্রুপের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণচুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রোববার থেকে গ্রুপটির চাহিদা অনুযায়ী ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান- সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের অনুকূলে ৩ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণসুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সিটি ব্যাংক পিএলসির নেতৃত্বে গঠিতব্য সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়ের আওতায় ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭ক (৩) ধারার বিধান আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
