পুঁজিবাজারে হঠাৎ আলোর ঝলক, আস্থা নেই বিনিয়োগকারীদের
টানা পতনের পর আজ পুঁজিবাজারের সূচকের বড় উত্থান দেখা গেছে। মূলত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে আরও ৪ বছরের জন্য অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের পুনঃনিয়োগের খবর এই উত্থান।এছাড়া গতকাল পুঁজিবাজার কারসাজিকারীদের গ্রেপ্তার করার বিষয়টিও সূচক বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এতে উচ্ছ্বাসিত নন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, আমরা এখন ঘরপোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। কারণ আগে বহুবার এইভাবে বাজারের উত্থান দেখেছি কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তারা বলেন,যখন বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা থাকবে তখনই আমরা এই বাজারে আস্থা রাখতে পারবো।
অধ্যাপক শিবলী দ্বিতীয় দফায় বিএসইসি চেয়ারম্যান হওয়ার সংবাদ আসার দিনে দেশের পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে এক ডজন প্রতিষ্ঠান।
ঈদের পর লেনদেন হওয়া নয় কার্যদিবসের মধ্যে আট কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এ পরিস্থিতিতে রোববার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় মেয়াদে বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছেন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এতে লেনদেনের শুরুতেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়।
দুপুরের মধ্যে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের পুনঃনিয়োগ পাওয়া সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাজার আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়। লেনদেনে অংশ নেওয়া একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায়।
এমনকি লেনদেনের এক পর্যায়ে ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব, ততটাই বেড়ে যায়। লেনদেনের শেষদিকে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দামে ক্রয়াদেশ এলেও বিক্রি আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম দিনের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি চলে আসে। দিনের লেনদেন শেষে ৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
প্রায় একশ প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এমন দাপট দেখানোর ফলে দিনের লেনদেন শেষে একদিনে দাম বাড়ার তালিকা যেমন বড় হয়েছে, তেমনি সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৫২টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬১৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
পতনের মধ্যে থাকা বাজারে হঠাৎ এমন বড় উত্থান হওয়ার কারণ হিসেবে ডিএসইর একাধিক সদস্য বলেন, আজ বাজারে যে বড় উত্থান হয়েছে তার মূল কারণ অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ। এদিকে সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ছয়শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬১৩ কোটি ৯৫ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫১১ কোটি ৪৩ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ টাকা
এই লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাভেলো আইসক্রিমের ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আইটি কনসালটেন্ট, ওরিয়ন ইনফিউশন, গোল্ডেন সন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, কোহিনুর কেমিক্যাল, বিচ হ্যাচারি এবং সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৮৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭১টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
