ঈদের ছুটিতে অকারণেই বাড়লো পেঁয়াজের দাম
একটু কমতে শুরু করেছিলো পেঁয়াজের দাম। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ঈদের ছুটিতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এই সময়ে কোনও কারণ ছাড়াই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গত চার দিনে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। চার-পাঁচ দিন আগেও যা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আবারও পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নড়বড়ে বিপণন ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নজরদারির অভাবে এবার ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজের বাজার বার বার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। আর এখন ঈদের ছুটিতে ভোক্তা অধিদফতরের কর্মকর্তারা মাঠে না থাকায় এই দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সঠিকভাবে মনিটরিংও করা যাচ্ছে না।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইকারি পর্যায়েই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। তাই খুচরা পর্যায়ে ৭০ টাকায় বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। তাছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে হালি (পরিপুষ্ট) পেঁয়াজও পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পচনশীল পণ্য বলে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ ভাগ সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবসহ নানা কারণে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাড়তি উৎপাদনের পরও ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। আর এই ঘাটতি মেটাতেই আমদানি করতে হচ্ছে। কিন্তু আমদানি পরিস্থিতিতে কিছু একটা সমস্যা হলেই অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের বাজার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চীন ও ভারতের পর শুধু বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশই নয়, আমদানিতেও শীর্ষে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। আর দেশে চাহিদা ২৮ থেকে ৩০ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, ঘাটতি নয়, বরং বাড়তি উৎপাদন হচ্ছে পেঁয়াজ। সরকারি হিসেবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি অন্তত ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন। তারপরও শুধু ভারত থেকেই চলতি অর্থবছরে এরই মধ্যে ৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কাজেই, প্রশ্ন ওঠেছে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও কেন আমদানি ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না?
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এক আদেশে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত। এরপর দিনাজপুরের হিলি, সোনামসজিদসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সিলেট, ফেনী, কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসবে এমন খবরে গত সপ্তাহে ভারতীয় ও দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। তার ওপর রোজা উপলক্ষে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। কৃষকরাও বাড়তি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তাই দামটা বাড়তি।
