‘ইতেহাদুলউম্মাহ’ ঘিরে উদ্বেগ, নজরদারি জোরদারের তাগিদ । পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পলাতক আসামিদের নিয়েও প্রশ্ন
নতুন জঙ্গি সংগঠনের ছক, কোথায় নিরাপত্তার ফাঁক?
প্রতীকি ছবি
নতুন নামে জঙ্গি সংগঠন গড়ার পরিকল্পনা, সদস্য সংগ্রহের আশঙ্কা, অর্থায়নের উৎস এবং পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ—সব মিলিয়ে আবারও আলোচনায় জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা। রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটকের পর ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন প্রশ্ন, সংগঠনটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, এর সাংগঠনিক বিস্তারের পরিকল্পনা কতদূর, কারা এর পেছনে রয়েছে এবং কোনো সহিংস তৎপরতার প্রস্তুতি ছিল কি না?
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের জন্য এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা যেমন জরুরি, তেমনি অতীতের জঙ্গি তৎপরতা, আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক এবং কারাগার থেকে পলাতক জঙ্গি মামলার আসামিদের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক বিতর্কের উপকরণ না বানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখতে হবে। অভিযান ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উগ্রবাদের সামাজিক ভিত্তি দুর্বল করা, তরুণদের সচেতন করা এবং উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগও প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম মনে করেন, অতীতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যবহার বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এবার যেন সেই প্রবণতার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ‘জঙ্গিবাদ রাজনৈতিক কার্ড নয়, নিরাপত্তার প্রশ্ন’
অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন কোনো জঙ্গি দলের উত্থান কিংবা বিভিন্নভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করবে। তাঁর ভাষ্য, “এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ কিংবা উগ্রতা নিয়ে আমরা যতটা বাস্তবতা উপলব্ধি করে যথাযথ ভূমিকা রেখেছি, তার চেয়ে বেশি বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। এটাকে একটা রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অখণ্ডতাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তাঁর মতে, যারা নিজেরা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে, পাশাপাশি অন্যদেরও এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
তেজগাঁওয়ের ঘটনায় ১২ জনকে ঘিরে তদন্ত
গত ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মুঠোফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হয়।
২০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’ নামে সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য ১১ জনের মুঠোফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা যুক্ত হয়েছে।
তবে সংগঠনটির প্রকৃত উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সদস্যসংখ্যা, অর্থায়ন, সাংগঠনিক কাঠামো এবং অন্য কোনো জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। ফলে তদন্তে পাওয়া তথ্য, সন্দেহ এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।
পুরোনো জঙ্গি সংগঠনের অভিজ্ঞতা কি কাজে লাগবে?
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাস নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনগুলোর তৎপরতা, সদস্য সংগ্রহ, উগ্রবাদী প্রচার এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে বড় শিক্ষা হয়ে আছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি), হিযবুত তাহ্রীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, আনসার আল ইসলাম, আল্লাহর দল, জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ এবং শাহাদাত-ই আল হিকমাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নাম রয়েছে। এ ছাড়া জামাআতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়াকে ২০২৩ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
অতীতে জেএমবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের নাম একাধিক বড় জঙ্গি হামলার তদন্তে উঠে এসেছে। আনসার আল ইসলাম ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এসব অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—কোনো গোষ্ঠীর তৎপরতা শনাক্ত করতে শুধু তার নাম বা প্রকাশ্য উপস্থিতির দিকে নজর রাখলে চলবে না। নেতৃত্ব, সাংগঠনিক যোগাযোগ, অর্থের উৎস, সদস্য সংগ্রহের কৌশল এবং সহিংসতার প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
তবে পুরোনো কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’র সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। নতুন সংগঠনটির বিষয়ে তদন্তের ফলই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের বাইরে জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ঝুঁকি কতটা?
জঙ্গিবাদ এখন আর শুধু কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় নয়। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বিভিন্ন অঞ্চলে সহযোগী গোষ্ঠী, অনলাইন প্রচার, সদস্য সংগ্রহ ও অর্থায়নের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের খোরাসান শাখা (আইএস-কে) এবং পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নিয়েও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে অনলাইন যোগাযোগ, আন্তদেশীয় অর্থ লেনদেন, প্রচারসামগ্রী বিনিময় এবং সহযোগী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে এসব নেটওয়ার্কের যোগাযোগ আছে কি না, তা অনুমান দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না; প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য ও ফরেনসিক প্রমাণ।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আইএস ও আল-কায়েদা নিষেধাজ্ঞা কমিটি আন্তর্জাতিকভাবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা কার্যকর করার কাঠামো তদারক করে। আন্তদেশীয় যোগাযোগ ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও এ কারণে বেশি।
‘ইতেহাদুলউম্মাহ’র সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় এ মুহূর্তে কোনো সংযোগের দাবি করা সমীচীন নয়। তবে তদন্তে এমন কোনো সূত্র পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
কারাগার থেকে পলাতক জঙ্গি আসামিরা কোথায়?
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে বন্দি পালানোর ঘটনাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। পলাতকদের মধ্যে জঙ্গিবাদী মামলার আসামি থাকার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে সংবাদে এসেছে।
কিন্তু বর্তমানে কতজন পলাতক রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন জঙ্গিবাদী মামলার আসামি, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কারা এখনো অধরা—এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হালনাগাদ সরকারি তথ্য প্রয়োজন। একইভাবে পলাতক আসামিদের কারও সঙ্গে নতুন কোনো সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণ ছাড়া বলা যাবে না।
পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, কারাগারের নিরাপত্তা পর্যালোচনা, আন্তদেশীয় যোগাযোগের তথ্য বিনিময় এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান জঙ্গিবাদ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এ ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর তথ্য নয়, যাচাই করা গোয়েন্দা ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অভাব-অনটনকে পুঁজি করে উগ্রবাদে টানার অভিযোগ
জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় শুধু নিরাপত্তা অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম। তাঁর মতে, মানুষের অভাব-অনটন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে নির্দিষ্ট মতাদর্শের দিকে টেনে নেওয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, এভাবে কোনো ধারণার মধ্যে আটকে পড়লে একজন ব্যক্তির পক্ষে বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই যারা ইতিমধ্যে উগ্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবার ও সমাজের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজনে পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো উগ্রবাদ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।
ধর্মীয় শিক্ষায় আধুনিকতা ও যুক্তিবোধের তাগিদ
ধর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক ধারণা, জীবনমুখী শিক্ষা এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তার সমন্বয় ঘটানোর পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জীবনযাপনের বাস্তবতা বিশ্লেষণ, নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং বিভিন্ন ধারণাকে যুক্তির আলোকে বিচার করার শিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।
তাঁর মতে, শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা কোনো বক্তব্য বা মতাদর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ না করে তা বিচার-বিশ্লেষণ করতে শেখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্বশীল যোগাযোগ থাকলে তরুণদের উগ্রবাদী প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ বাড়ে। পাশাপাশি অনলাইনে সহিংস উগ্রবাদী প্রচার শনাক্ত করা ও তার মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরিও জরুরি।
‘সামান্য দুর্বলতাও’ বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও সতর্কতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার প্রশ্নে সামান্যতম দুর্বলতা বা ঘাটতি থাকলেও নানাভাবে এ ধরনের অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো জেগে ওঠে।”
তাঁর বিশ্বাস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
নিরাপত্তা বিশ্লেষণে নতুন কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তথ্য সামনে এলে তার সাংগঠনিক কাঠামো, অর্থায়ন, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য সহিংস পরিকল্পনা দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, ডিজিটাল নজরদারির আইনসম্মত প্রয়োগ এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কঠোর নজরদারি, তবে নিরপরাধের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে
জঙ্গিবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস বা মতাদর্শের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটকের ঘটনা ঘিরে ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’র পরিকল্পনার যে তথ্য সরকার জানিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনটির প্রকৃত উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সদস্যসংখ্যা, অর্থায়ন, যোগাযোগের পরিধি এবং কোনো সহিংস পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তরই নির্ধারণ করবে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ।
জঙ্গিবাদ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ তাই কেবল নতুন কোনো সংগঠন শনাক্ত করা নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করা, উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের বিস্তার ঠেকানো এবং মানুষকে সহিংসতার পথ থেকে দূরে রাখা। রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নিরাপত্তা, শিক্ষা, সামাজিক প্রতিরোধ ও আইনের শাসনকে সমন্বিত করেই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
