তিন গোলে এগিয়ে নিশ্চিন্ত ভারত, শেষ মুহূর্তে কাঁপিয়ে দিল পাকিস্তান
শুরুতে সৌহার্দ্যের হাত মেলানো, এরপর মাঠে টানটান লড়াই। প্রথমার্ধে তিন গোল করে পাকিস্তানকে একপ্রকার ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুই গোল করে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দেয় পাকিস্তান। ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি তারা। পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চদশ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ভারতের হয়ে জোড়া গোল করেন সুহাইল আহমেদ ভাট। অন্য গোলটি মাংলেংথান কিপগেনের। পাকিস্তানের হয়ে শেষ দিকে গোল দুটি করেন নাজিব উল্লাহ ও আলমগীর আলি খান গাজী।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ থাকায় সাফে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে আসেনি ভারত। যুব দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়কে নিয়েই মাঠে নামে তারা। তবে তরুণদের গতিময় ও গোছানো ফুটবলের সামনে শুরু থেকেই অসহায় দেখাচ্ছিল পাকিস্তানকে।
ম্যাচের শুরুতে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাত মেলানোর দৃশ্য ছিল সৌহার্দ্যের বার্তা। এরপর মাঠের লড়াইয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। একের পর এক আক্রমণে পাকিস্তানের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা।
দ্বাদশ মিনিটে সুহাইল আহমেদ ভাটের একটি শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। তবে পরের মিনিটেই আর ভুল করেননি তিনি। মুহাম্মেদ উভাইস মইকালের আড়াআড়ি ক্রস থেকে নিখুঁত শটে ভারতকে এগিয়ে দেন সুহাইল।
১৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভারত। আভিষেক ধনাঞ্জয়ের থ্রু পাস পেয়ে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে এগিয়ে যান সুহাইল। গোলকিপারকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
৩২তম মিনিটে ভারতের তৃতীয় গোল। এন নওশাদের থ্রু পাস ধরে কিপগেনের নেওয়া শট পাকিস্তানের গোলকিপার ইউসুফ ইজাজ বাটের পায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। তাতে প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।
তবে ৩৪তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। বক্সে হায়ান খাট্টাককে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় দলটি। কিন্তু স্পটকিক থেকে শায়েক দোস্তের নেওয়া শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। সুযোগ নষ্ট করে হতাশায় ডোবে পাকিস্তান।
বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করে তারা। অন্যদিকে পাকিস্তান চেষ্টা চালায় অন্তত একটি গোল করে ম্যাচে ফেরার। তবে দুই দলের খেলায় ধীরে ধীরে গতি কমে আসে। ভারতও আর ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া ছিল না।
৮৪তম মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। নাজিব ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নিলেও ভারতের গোলকিপার আরশ আনোয়ার শেখ তা আটকে দেন।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায় যখন সবাই, তখনই নাটকীয়তা। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জুনায়েদ আহমেদ শাহর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন নাজিব উল্লাহ। ব্যবধান নেমে আসে ৩-১-এ।
এরপর আরেকটি দৃষ্টিনন্দন গোলে ভারতের শিবিরে কিছুটা হলেও উদ্বেগ ছড়ায় পাকিস্তান। অ্যারন আব্দুল্লাহার পাস পেয়ে বুটের টোকায় বল কিছুটা ওপরে তুলে অনেকটা শুয়ে পড়ে সাইডভলিতে জালে পাঠান আলমগীর আলি খান গাজী। স্কোরলাইন ৩-২।
শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের এই প্রত্যাবর্তনে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ালেও সমতা ফেরানোর সময় পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
সাফে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এটি ভারতের অষ্টম জয়। ১০ বারের দেখায় একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর পাকিস্তান জিতেছে একবার—২০০৩ সালে ঢাকায় ১-০ গোলে।
