এমবাপের জোড়া গোলে বার্সাকে হারিয়ে ক্লাসিকোয় রিয়ালের দাপট
সংগৃহীত ছবি
মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে লা লিগার শিরোপার লড়াই জমিয়ে তুলেছে রেয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে কাম্প নউয়ে স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জুজে মরিনিয়োর দল। বার্সেলোনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন হাফিনিয়া।
রোববারের এই জয়ে লিগে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়েছে রেয়াল। ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হান্সি ফ্লিকের দলকে। অন্যদিকে, প্রথমার্ধে ভাগ্যের সহায়তায় পাওয়া এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ দিকে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
এবারের লা লিগায় টানা নয় জয়ের পর প্রথম হারের মুখ দেখল বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা দ্বিতীয় পরাজয়। গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের আগে ঘরের মাঠে বার্সেলোনাকেই এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই হিসাব পাল্টে দেয় রেয়াল। ১৩ বছর পর মরিনিয়োর ক্লাসিকোয় ফেরার দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন এমবাপে। জোড়া গোলের পাশাপাশি রেয়ালের জার্সিতে নিজের গোলের সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন ফরাসি তারকা।
ভাগ্যের সহায়তায় এগিয়ে রেয়াল
শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আক্রমণে ওঠে বার্সেলোনা। তবে ম্যাচের প্রথম দিকে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। রেয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন একাধিকবার বার্সেলোনার আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন।
৪১তম মিনিটে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের ভুলে এগিয়ে যায় রেয়াল। বক্সের মধ্যে সতীর্থের পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল এমবাপের পায়ে মেরে বসেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন। সেখান থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন লামিনে ইয়ামাল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রেয়াল।
হাফিনিয়ার গোলে ফিরেও শেষ রক্ষা হয়নি
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার জন্য আক্রমণের গতি বাড়ায় বার্সেলোনা। অন্যদিকে ব্যবধান ধরে রাখার পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালিয়ে যায় রেয়াল।
৬১তম মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। কর্নার থেকে পাওয়া বলে পেদ্রির সহায়তায় শট নেন হাফিনিয়া। রেয়াল গোলরক্ষক লুনিনের হাত ছুঁয়ে বল জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে বার্সেলোনার সমর্থকেরা। চলতি লা লিগায় ১০ ম্যাচে এটি ছিল হাফিনিয়ার ১৩তম গোল।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পায় বার্সেলোনা। কর্নার থেকে জেরার্দ মার্তিনের জোরালো হেড দারুণ দক্ষতায় এক হাতে ফিরিয়ে দেন লুনিন। পরে ইয়ামালের একটি শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের শেষ দিকে ড্রয়ের সম্ভাবনা যখন জোরালো হচ্ছিল, তখনই ব্যবধান গড়ে দেন এমবাপে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে সতীর্থদের সমন্বিত আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। গোলরক্ষক পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসার সুযোগে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে রেয়ালের জয় নিশ্চিত করেন ফরাসি তারকা।
গোলের পর ডাগআউটের পাশে হাঁটু গেড়ে স্লাইড করে উদ্যাপন করেন মরিনিয়ো। তাঁর দলের জন্য এটি ছিল শুধু ক্লাসিকোর জয় নয়, শিরোপার দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টও।
পয়েন্ট তালিকায় জমে উঠেছে লড়াই
এই জয়ে ১০ ম্যাচে আট জয় ও ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানেই রয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আতলেতিকো মাদ্রিদ। আর ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।
ম্যাচে ৬২ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল বার্সেলোনা। গোলের উদ্দেশ্যে ১৮টি শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল তারা। অন্যদিকে রেয়ালের ১০টি শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে।
চলতি মৌসুমে লা লিগায় ১০ ম্যাচে এমবাপের গোলসংখ্যা ১১। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রেয়ালের হয়ে ১১৬ ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
