মেসিকে দলে নিতে চাননি এক কোচ, লা মাসিয়ার প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। অথচ ক্যারিয়ারের শুরুতেই তাকে নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন বার্সেলোনার যুব অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ার কোচদের একজন। মেসির ফুটবলীয় দক্ষতার প্রশংসা করলেও তার উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে দলে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন ওই কোচ। তবে আরেক কোচ তাকে তুলনা করেছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার তরুণ বয়সের সঙ্গে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালের শরৎকালে বার্সেলোনার লা মাসিয়ায় মেসির ট্রায়াল নিয়ে তৈরি তিনটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন সামনে এসেছে। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের সাংবাদিক ফ্লোরঁ তোরশু এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তিনি ‘কিং লিও’ নামের একটি জীবনীগ্রন্থের লেখকও।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার যুব অ্যাকাডেমিতে ট্রায়াল দিতে গিয়েছিলেন মেসি। তখন তার ফুটবলীয় প্রতিভা নজর কাড়লেও শারীরিক গঠন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল কোচদের মধ্যে। তিনটি প্রতিবেদনে মেসিকে নিয়ে তিন ধরনের মূল্যায়ন উঠে আসে।
প্রথম কোচের প্রতিবেদনে মেসির ড্রিবলিং, ক্ষিপ্রতা, বুদ্ধিমত্তা, দূরদৃষ্টি এবং জোরালো শট নেওয়ার দক্ষতার প্রশংসা করা হয়। বয়সের তুলনায় তার কারিগরি দক্ষতাকে অত্যন্ত পরিণত হিসেবে উল্লেখ করেন ওই কোচ। বিশেষ করে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে মেসির পারফরম্যান্সকে অসাধারণ বলে অভিহিত করা হয়। তবে তার কম উচ্চতা ও শারীরিক শক্তির ঘাটতিকে দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় কোচের মূল্যায়ন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন মেসির উচ্চতা ছিল ১৪২ সেন্টিমিটার। ওই কোচের আশঙ্কা ছিল, শারীরিকভাবে ছোট হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলে মেসিকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। ভবিষ্যতে তার উচ্চতা ১৫০ সেন্টিমিটার হলেও বয়সে বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
এমন সংশয়ের ভিত্তিতে ওই কোচের চূড়ান্ত সুপারিশ ছিল, মেসিকে তখনই দলে নেওয়া উচিত হবে না। বরং তার শারীরিক বিকাশের ওপর নজর রেখে দুই বছর পর আবারও মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে তৃতীয় কোচের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল একেবারেই আলাদা। মেসির মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। তার প্রতিভা ও খেলার ধরন দেখে তরুণ দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করেন এবং তাকে দলে নেওয়ার সুপারিশ জানান।
কোচদের মধ্যে এমন মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনায় নিজের জায়গা করে নেন মেসি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে। একপর্যায়ে বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েন তিনি।
বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৮টি আনুষ্ঠানিক ম্যাচে ৬৭২ গোল করেছেন মেসি। এ সময় ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন ৩৫টি শিরোপা। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার প্রমাণ করে, শুরুর দিকে উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে যে সংশয় ছিল, তা তার অসাধারণ প্রতিভা ও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
