বোলিংয়ে আগুন ঝরিয়েও ব্যাকফুটে বাংলাদেশ
১০২ রানের খরচায় বাংলাদেশের শিকার ৬ উইকেট। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোরকার্ড দেখলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে চট্টগ্রাম টেস্টে দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার বড় সংগ্রহের জবাবে নাজমুল হোসেন শান্তরা দুইশ’র আগে গুড়িয়ে যাওয়ায় ব্যাকফুটে টাইগাররাই।
চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৫৩১ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। জবাবে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ১৭৮ রানে। এতে ৩৫৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে লঙ্কানরা। লিড বড় করার আশায় আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে শ্রীলঙ্কা। এই সুযোগে বাংলাদেশের দুই পেসার হাসান মাহমুদ এবং খালেদ আহমেদ তুলে নেন ৬ উইকেট। আর তৃতীয় দিন শেষে ১০২ রান তুলে শ্রীলঙ্কা।
দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং নেমে দলীয় ১৫ রানে দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদের শিকার হন যথাক্রমে দিমুথ করুনারত্নে (৪) এবং কুশাল মেন্ডিস (২)। দুজনই হন বোল্ড আউট। শুরুর ধাক্কা সামলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন নিশান মাদুশকা এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। ১২.৫ ওভারে এই জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ফেরান ৪৫ বলে ৩৪ রান করান মাদুশকাকে। এরপর দলীয় সংগ্রহে ২৯ রান যোগ করতে আরো তিন উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। দিনেশ চান্দিমাল ৯, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ১ এবং কামিন্দু মেন্ডিস ৯ রানে সাজঘরে ফেরেন। অল্পতেই ৬ উইকেট হারালেও প্রথম ইনিংসের পাহাড়সম সংগ্রহের সুবাদে ৪৫৫ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করবে শ্রীলঙ্কা। আগামীকাল লঙ্কানদের সামনে লিড বাড়িয়ে নেয়ারও সুযোগ থাকছে। অর্থাৎ, চট্টগ্রাম টেস্টে বড় টার্গেটই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে।
শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ ওভারে ৫১ রানের খরচায় ৪ উইকেট নেন চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষেক হওয়া হাসান মাহমুদ। ৯ ওভারে ২৯ রানের খরচায় ২ উইকেট নেন খালেদ আহমেদ।
দ্বিতীয় দিনে শ্রীলঙ্কা অলআউট হওয়ার পর দিনের বাকি অংশে ১ উইকেটে ৫৫ রান তোলে বাংলাদেশ। জাকির হাসান ২৮ এবং তাইজুল ইসলাম শূন্য রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেন। দিনের শুরুতে ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখান এই দুই ব্যাটার। দুজন মিলে দলীয় সংগ্রহে যোগ করেন ৪১ রান। ৩২.৫ ওভারে জাকির হাসান ক্যারিয়ারের ৪র্থ ফিফটি (১০৪ বলে ৫৪) হাঁকিয়ে আউট হওয়ার পর ভাঙে এই জুটি। এরপরই শুরু হয় টাইগারদের ব্যাটিং ধস। দলীয় সংগ্রহে মাত্র ৯ রান যোগ করতে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১), তাইজুল ইসলাম (২২)। ধাক্কা সামলানোর প্রচেষ্টায় সাকিব আল হাসানও থিতু হতে পারেননি। এক বছর পর সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরে ১৫ রানে আউট হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা লিটন দাস আউট হন ৪ রানে। এরপর শাহাদাত হোসেন দীপু ৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ৭, খালেদ আহমেদ ১ রানে আউট হন। শেষে ৮৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন মুমিনুল হক।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ১০.৪ ওভারে ৩৪ রানের খরচায় ৪ উইকেট নেন লঙ্কান পেসার আসিথা ফার্নান্দো। দুটি করে উইকেট নেন বিশ^ ফার্নান্দো, লাহিরু কুমারা এবং প্রবাত জয়সুরিয়া।
