স্বাধীনতা দিবসে দর্শকদের উপহার দিতে চান জামাল ভূঁইয়া
প্রথম লেগে ৫-০ ব্যবধানে হার। দ্বিতীয় লেগের আগে তাই ঘুরে ফিরে উঠলো প্রথম লেগ প্রসঙ্গ। হতাশ হলেও জামাল ভূঁইয়া অবশ্য ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের ম্যাচ নিয়েই ভাবতে চান। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে ২৬ মার্চ। এমন বিশেষ দিনে দেশবাসীকে জয়ও উপহার দিতে চান অধিনায়ক। যদিও সেটা কতটা সম্ভব তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত জামাল একটু বাড়তি প্রেরণা পাচ্ছেন কিংস অ্যারেনা থেকে।
এ পর্যন্ত কিংস অ্যারেনায় চারটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার তিনটিতে ড্র এবং ১ টিতে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কাবরেরার দল। আর এমন পরিসংখ্যান নিয়ে জামাল জানোলেন এ মাঠে থাকতে চান অপরাজিত।
এছাড়াও ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে হারটা হবে লজ্জাজনক। তাই জামালও চান এই মাঠে সমর্থকদের হতাশ না করতে। তিনি বলেন, “৩ পয়েন্ট পেলে সেটা আমাদের জন্য হবে সর্বোচ্চ ভালো বিষয়; অবশ্যই আমরা চাই না নিজেদের দর্শকদের সামনে হারতে, কিংস অ্যারেনায় যে রেকর্ড আছে সেটা আসলে আমাদের ধরে রাখতে হবে। কেননা, এটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা সমর্থক, আপনাদের সামনে এই মাঠে ভালো পারফরম্যান্স দিচ্ছি।”
এছাড়া আগের ম্যাচে কী হয়েছে না হয়েছে তা ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় টিম বাংলাদেশ জানিয়ে জামাল বলেন, “কোচ যেটা উল্লেখ করেছেন…আমরা অনেক দিন একসাথে আছি। তো আগামীকাল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কোচও বলেছেন, প্রথম ম্যাচ ছিল ভীষণ হতাশাজনক, কিন্তু আমাদের সামনের দিকে, সামনের ম্যাচের দিকে তাকাতে হবে। সবশেষ ম্যাচে কী হয়েছে, কী না হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে অনেক আলোচনা করেছি। গত ম্যাচে কী হয়েছে, সেটা আমাদের ভুলে যেতে হবে, সব মনোযোগ থাকতে হবে কালকের ম্যাচে- এদিকেই আমাদের মূল দৃষ্টি।”
কুয়েতে ম্যাচের প্রথম দিকে ফিলিস্তিনের চোখে চোখ রেখে লড়াই করছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে আচমকা ছন্দ হারিয়ে একের পর এক গোল হজম করে তারা। জামালের চাওয়া এমন কঠিন পরিস্থিতি এলে যেন ঘাবড়ে না নিয়ে প্রস্তুত থাকে সতীর্থরা।
“যেটা আমি মনে করেছি, ৪২-৪৬ মিনিট ওখানে একটা ছন্দপতন হয়েছিল। এরপর ৪৮ থেকে ৫৬-এই আট মিনিট আরেক দফা ছন্দপতন হয়। বলতে পারব না, আসলে কী হয়েছিল। তবে এটা নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি… যদি পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এমন পরিস্থিতিতে পড়ি, তাহলে যেন কতটা কমপ্যাক্ট থাকতে পারি। ওই ১০ মিনিট আসলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের এখান থেকে শিখতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে, এছাড়া আর কিছু তো করার নাই, তাই না?”
এদিকে বাংলাদেশ দলের কোচ হাভিয়েল কাবরেরার কণ্ঠেও প্রায় অভিন্ন সুর। কিংস অ্যারেনায় অপরাজিত থাকার সুযোগটা তিনিও নিতে চান ভালোভাবে। কাবরেরা বলেন, ‘কাল আমাদের জন্য বড় দিন।’ কাবরেরা আরও বলেছেন, ‘অনেক দিন পর দেশে খেলার সুযোগ পাচ্ছি, তাই খুব খুশি আমরা। কিংস অ্যারেনায় আমরা অপরাজিত। এটা দারুণ ব্যাপার। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।’
ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ৫-০ গোলে হার বাংলাদেশের জন্য বড় এক শিক্ষাই। তবে তাতেও অনেক ইতিবাচক দিক আছে জানিয়ে কোচ বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলেছি। ৪২ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছি এশিয়ান কাপে সেরা ১৬-তে ওঠা দলের সঙ্গে। যাহোক, সেই ম্যাচের ভুল শুধরে ফিরতি লেগে ভালো কিছু করতে চাই। আশা করি, আমরা কিছু পয়েন্ট পাব। সমর্থকদের জন্য ভালো কিছু করব।’
এদিকে বাংলাদেশের বিশেষ এই দিনে বাংলাদেশি জনগণের জন্য কোনো বার্তা আছে কি না, জানতে চাইলে ফিলিস্তিন দলের কোচ মাকরাম দাবোব বলেন, ‘আমরা খুশি যে এমন দিনে ঢাকায় খেলতে নামছি। বাংলাদেশে মানুষের জন্য শুভেচ্ছা। আশা করি, প্রতিবছর বাংলাদেশের জনগণ দিনটি দারুণভাবে উদ্যাপন করবে।’
