নেইমার যা পারেননি এন্ড্রিক কি তা পারবেন?
শনিবার ইংলিশ বধের পর ব্রাজিলে চলছে এন্ড্রিক উন্মাদনা। এর আগে শেষ চার ম্যাচে ব্রাজিলের জয় নেই একটিতেও। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ১৫ বছরে জিততে পারেনি ব্রাজিল। এমন পরিসংখ্যান নিয়ে ব্রাজিলের কোচ হিসেবে অভিষেক হলো দরিভাল জুনয়িরের। দরিভাল এই ম্যাচ অবশ্য উতরে গেছেন ১৮ বছরের এনিড্রকের কল্যাণে।
৭১ মিনিটে রদ্রিগোর বদলি হিসেবে নামেন এই তরুণ। ম্যাচ তখন এগোচ্ছিল ড্রয়ের দিকে। তবে ৮০ মিনিটে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে রুপকথায় নাম লেখান এন্ড্রিক। সেই সাথে হয়ে যান ওয়েম্বলিতে গোল করা সবচেয়ে কনিষ্ঠতম ফুটবলার। এরপরই মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে এন্ড্রিক বন্দনা।
সেই সাথে এন্ড্রিকও বুঝিয়ে দিলেন তাকে কেন পরবর্তী পেলে ভাবা হচ্ছে। এই তরুণ এতটাই বিস্ময় ছড়িয়েছেন যে, ব্রাজিলীয়ান ক্লাব পালমেইরাসে থাকাকালীন তাকে নিয়ে শুরু হয় কাড়াকাড়ি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এন্ড্রিক নাম লিখিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। আগামী মৌসুম থেকেই লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে মাঠ মাতাবেন তিনি।
মাত্র ১১ বছর বয়সে ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পান এন্ড্রিক। ১১ বছর বয়স থেকে প্রায় ৫ বছর পালমেইরার বয়সভিত্তিক দলে ছিলেন। এর আগে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক ঘটে এন্ড্রিকের। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর পর গত নভেম্বরে সবচেয়ে কম বয়সে জাতীয় দলে ডাক পান তিনি।
সিনিয়র দলে সুযোগ পেয়েই সৃষ্টি করলেন ইতিহাস। তার হাত ধরেই ব্রাজিলও খুঁজবে দীর্ঘদিনের অধরা সাফল্য। এমনিতেই ২০০২ এরপর সাম্বা নাচের দেশটি নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। ফুটবলই যাদের প্রধান প্রার্থনা তাদের কাছ থেকেই যেন ফুটবলের সফলতা হারিয়ে যেতে বসেছে। মাঝে নেইমারের ওপর ভর করে ব্রাজিলীয়ানরা আশা করেছিলেন হয়তো এবার অপেক্ষার পালা শেষ হলো। পেলে থেকে শুরু করে রোনালদিনহো, ব্রাজিলীয়ানদের সাফল্যে রুপকথার জাদুকর ছিলেন তারা। নেইমার বুঝি সেই লিগ্যাসিই ধরতে এলেন। তবে সেখানে হতাশই করেছেন নেইমার। ব্যক্তি জীবন আর ইনজুরিতে নিঃশেষতো নেইমার হয়েছেনই, ভেঙে চুরমার হয়েছে কোটি সেলেসাও সমর্থকদের হৃদয়।
তবে এবার সেই ভাঙা হৃদয়ে জোড়া লাগানোর রসদ হিসেবে এসেছেন এন্ড্রিক। ব্রাজিলীয়ানদের বিশ্বাস, নেইমার যা পারেননি সেটাই করে দেখাবেন এন্ড্রিক। আঙুল উঁচিয়ে দেখাবেন ‘ওইতো জগো বনিতোর সেই হারানো সাম্রাজ্য!’
শেষ করবো ছোট্ট একটা গল্প দিয়ে। পালমেইরাসে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন ডগলাস সুসা। তবে ব্রাজিলিয়ান বলেই কিনা নান্দনিক ফুটবলে চোখ আটকে যেতো তার। একদিন সেরকমই নান্দনিক ফুটবলের কারুকার্যের সাক্ষী হলেন তিনি। তিন বছরের এক শিশুর বাইসাইকেল কিক দেখে তার চক্ষু ছানাবড়া। বিস্ময়ে আবিষ্কার করলেন, এ আর কেউ নন, ৩ বছরের সেই শিশুটি তারই পুত্র এন্ড্রিক ফেলিপে। সেই ফেলিপে, যিনি মাত্র ১৮ বছরেই মাতাচ্ছেন ফুটবল বিশ্ব।
