হতভাগা পাওলো দিবালা
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবান ফুটবলার পাওলো দিবালা। যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে জাতীয় দলে দিবালা কেন জায়গা পান না? উত্তর লিওনেল মেসির পজিশনের প্লেয়ার হওয়াটাই কারণ! কিন্তু শুধুই কি তাই? উত্তর হচ্ছে, না।
এমনিতে কতশত ফুটবলারই হারিয়ে গেছেন ইনজুরি নামক ভয়াল থাবায়। দিবালা তাদের মধ্যে একজন। হ্যাঁ, দিবালার মত ফুটবলার যে কোন দেশের মূল একাদশে জায়গা পাবেন নিমিষেই। তবে মেসি এবং দিবালা একই ঘরানার হওয়াতে আর্জেন্টিনাতে কিছুটা জায়গা পাওয়াটা কঠিনই লা জয়ার জন্য। কিন্তু সে তত্ত্ব বাদেও দিবালা জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন বহুবার। কিন্তু কেন যেন পাওলো বারবার হার মানছেন ইনজুরির কাছে।
এর সর্বশেষ সংযোজন আসন্ন প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াড থেকে চোটে পড়ে ছিটকে গেছেন রোমা তারকা। দিবালার অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে আর্জেন্টিনার খেলা মানেই চোটে পড়বেন তিনি। ইনজুরির থাবা দিবালাকে এতটাই গ্রাস করেছে যে শেষ ৮ ম্যাচের ১টিতেও ছিলেন না লা জয়া।
অথচ তার সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগটা এসেছিল এবারই। চোটে পড়ে স্কোয়াডে নেই লিওনেল মেসি। মেসির পজিশনে স্বাভাবিকভাবেই দিবালাই প্রথম চয়েজ। কিন্তু এবারো কপাল পুড়লো তার। রোমার হয়ে অনুশীলনের সময় ডান পায়ে ব্যথা পান ৩০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। আর এতেই জাতীয় দল থেকে ছিটকে গেছেন এই ফরোয়ার্ড।
অথচ একজন ফুটবলারের সারা জীবনের স্বপ্নই থাকে জাতীয় দলে নিজেকে মেলে ধরা। আর সেই স্বপ্নে যেন দিবালার বাঁধার শেষ নেই। সর্বশেষ রোমার হয়ে চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে আছেন দিবালা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৮ ম্যাচ খেলে ১৪ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
দিবালার ক্লাব পারফর্ম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ অবশ্য একেবারেই নেই। অবশ্য একসময় যাকে নতুন মেসি বলা হত তার পারফর্ম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না স্বাভাবিক। একই পজিশন, খেলার ধরন, বাঁ পায়ে খেলা কিংবা দৈহিক গঠনে মেসির মত হওয়ায় দিবালাকে মেসির যোগ্য উত্তরসূরি বরা যায়। তবে সর্বকালের সেরা প্লেয়ারের মত হওয়াটাই যেন অভিশাপ। এটা যদি দিবালা জানতেন নিশ্চিতভাবে নিজেকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলতেন।
তবে সে উপায়ও এখন নেই। যেটা আছে সেটা হল মেসির অনুপস্তিতিতে মেসির পজিশনে যোগ্যতার জানান দেয়া। কিন্তু ওই যে, প্রকৃতিই হয়তো চায় না দিবালা সেটা জানান দিক। আর চায় না বলেই দিবালা আটকে আছেন দুর্ভাগা হয়ে।
তবে দিবালা ফিরে আসুক। ফিরে আসুক নিজের স্বমহিমায়। আর ফুটবল বিশ্বকে জনান দিক দিবালারা কখনো হার মানতে শেখেননি।
