ফোনালাপ ফাঁস নিয়ে লাইভে আসছেন তামিম
এই মুহুর্তে টক অফ দ্য টাউন তামিম-মিরাজের ভাইরাল ফোনালাপ। মঙ্গলবাররাতে হঠাৎ ফাঁস হয় বিষয়টি। দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল প্রথম তামিম ইকবাল ও মেহেদী হাসান মিরাজের সেই ফোনালাপ প্রচার করে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের নেপথ্য ঘটনা কি, তা এখনও অজানা। এবার বিষয়টির ব্যাখ্যা করতে বুধবার সন্ধ্যায় লাইভে আসার ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল।
আজ ৩৫তম জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভ্যারিফায়েড পেজে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক। নিজের ওই পোস্টে বিশেষ এই দিনে শুভেচ্ছা জানানোয় কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তামিম।
ফেসবুক পোস্টে তামিম লেখেন, জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আমাকে মনে রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। গতকাল থেকে একটা ফোনকল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় লাইভে আসছি। এরপরই মুলত তামিমের লাইভ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তামিম ভক্ত থেকে নিন্দুকেরাও অপেক্ষা করছেন এর পেছনের রহস্য জানার।
দা নিউজের পাঠকদের সুবিধার্থে ফোনালাপটি তুলে ধরা হলো :
মিরাজ: হ্যাঁ, তামিম (ভাই)। আসসালামু আলাইকুম।
তামিম: কী অবস্থা রে, কেমন আছিস?
মিরাজ: এই তো আলহামদুলিল্লাহ (ভাই)। আপনি কেমন আছেন?
তামিম: কেমন থাকি রে? মুশফিক এটা কোনো কাজ করছেরে মিরাজ?
মিরাজ: ভাই, শুনলাম আমিও। সে জিনিসটা… ঠিক আছে… এখন কী করবেন।
তামিম: না, এটা তো একটা. লাস্টে আমাদের… ফাইনালের পরে আমাদের মিটিংয়ে কী কথা হইছে? আমি তোরে ওই সময় একটা কথা বলছিলাম না যে আমরা চেষ্টা করব যে ৭০ থেকে ৮০ পারসেন্ট আমরা যেন সেইম টিম থাকতে পারি। ঠিক আছে? আর এই কথার আমার বেইসই ছিল তুই মুশফিক সবসহ। ঠিক না?
তামিম: মুশফিক আমার জন্য ইম্পরট্যান্ট একজন ছিল। সে করছেটা কী শোন। সে আমার সাথে তো কথা বলেই নাই, সে বলে এখন আলাদা একটা টিম বানাচ্ছে। শুনছস এটা?
মিরাজ: আমি একটু হালকা একটু শুনেছিলাম বাট হান্ড্রেড পারসেন্ট কনফার্ম ছিলাম না। বাট আপনি এখন যেটা বললেন আমি তো এখন হান্ড্রেড পারসেন্ট শিওর হলাম যে (ভাই) মনে হয় আলাদা টিম বানাচ্ছে।
তামিম: না, (ভাই) মিরাজ, তুই দে আমি ওরে কী ধরনের ফ্রিডম দিছি পুরা টিমে, হ্যাঁ? আমি ওরে দায়িত্ব দিছি পুরা টিম চালানোর। খেলা শেষ হইছে, খেলা শেষে আমি সবচেয়ে বেশি ওরে প্রেইজ করছি। আমি এখন পর্যন্ত ওরে প্রেইজ করি যে সে পুরা টিমটা হ্যান্ডেল করছে, তার কন্ট্রিবিউশনটা কত বেশি। সে এই মুহূর্তে আমাকে এই রকম মাঝপথে ছেড়ে যাওয়াটা কি উচিত ছিল?
মিরাজ: এখন করবেন (ভাই)? এখন (ভাই) গেছে। এখন সে তো আপনারই ফ্রেন্ড।
তামিম: আরে না। এখন তোদের সাথে নাই, খেলি না তো ন্যাশনাল টিমে, এখন অনেকের অনেক ভাবটাব বেড়ে গেছে। এটা হলো সমস্যা। ঠিক আছে।
মিরাজ: ভাই?
তামিম: কারণ হলো, যখন তোদের সাথে খেলতাম, ক্যাপ্টেন থাকলে তো আর এরকম তোরা করতে পারতি না। এখন আমার দাম নাকি, দাম কমে যাচ্ছে দেখে তোরা এসব করতেছস।
মিরাজ: (ভাই) শোনেন… রাগ কইরেন না। প্লিজ। কারণ, কী (ভাই), আপনি তো জানেন মুশফিক (ভাই) সম্পর্কে। সে তো একটু ইমোশনাল। হতো ইমোশনাল হয়ে
তামিম: ছোটবেলা থেকে ও আমার ফ্রেন্ড। ও একবার আমাকে অ্যাটলিস্ট বলত চলে যাওয়ার আগে। অ্যাটলিস্ট তখন তো আমার একটু শান্তি হইতো যে, না অ্যাটলিস্ট বলে গেছে। অসুবিধা নাই মিরাজ। সময় আমারও তো আসবে। পৃথিবী গোল কিন্তু… শুনে রাখ মিরাজ। একটা কথা শোন… পৃথিবী গোল আজকে তুই ওই সাইড, আমি এই সাইড। কালকে আমি ওই সাইডে বসব, তুই ওই সাইডে আসবি। ভুলে যাইস না। আর তোর বড় ভাইরেও বলে দিস।
মিরাজ: (ভাই) আপনি রাগ কইরেন না, ঠান্ডা হন। আমি দরকার হলে তার (ভাইয়ের) সাথে
তামিম: তুই দেখ আমি কী করি। আমি কথা কবনে তোর সাথে। এ ব্যাপারে কথা কব। জিনিসটা, কাজটা ও কোনোভাবেই ঠিক করে নাই।
মিরাজ: না (ভাই), কিছু করার দরকার নাই। কিছু করার দরকার নাই।
এরপর অবশ্য কলটি কেটে যায়। এখন দেখার বিষয় লাইভে এসে কী ব্যাখ্যা দেন খান সাহেব।
