তামিমের পর রিশাদ টর্নেডোয় সিরিজ বাংলাদেশের
তানজিদ হাসান তামিমের পর রিশাদ হোসেনের শেষ সময়ের টর্নেডো ইনিংসে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। লক্ষ্য খুব বড় নয়, ২৩৬ রানের। কনকাশন বদলি হিসেবে নেমে তানজিদ হাসান তামিম খেললেন ৮১ বলে ৮৪ রানের মারকুটে ইনিংস। তারপরও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে হারের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত রিশাদ ঝড়ে শঙ্কার অবসান ঘটলো।
তিকশানার অব স্টাম্পের বাইরের বলটায় মুশফিক ব্যট সামনে নিলেন। আউটসাইড-এজে চার। ৪ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশ সিরিজ জিতলো ২-১ এ। মুশফিক হয়তো চেয়েছিলেন অপরপ্রান্তে দাড়িয়ে থাকা রিশাদ হাফসেঞ্চুরি করুক। কিন্তু কি আর করা! এভাবে বাউন্ডারি হয়ে গেলে সেটা আর করার কিছু থাকে না। তবে শেষ চারটার আগে রিশাদ যা দেখালেন তাতে রীতিমতো বিধ্বস্ত লঙ্কান শিবির।
এর আগে লেগ সাইডের বলে ঘুরিয়ে খেলতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে মিরাজ যখন আউট হলেন তখনো টাইগার শিবিরে হারের শঙ্কা। যে কোন সময় ম্যাচ জিততে পারে দু’দলের একদল। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে রিশাদ এমনভাবে ম্যাচটি বের করলেন তাতে লঙ্কানদের জয়ের সুযোগ ছিল না একেবারেই।
রিশাদ টি-টোয়েন্টি সিরিজ যেখানে শেষ করেছিলেন, ওয়ানডে শুরু করলেন যেন সেখান থেকেই। মিরাজেরর প্যাভিলিয়নে ফেরার পর রিশাদ যখন ক্রিজে এলেন তখন বাংলাদেশের দরকার ৫৮ রান। আর এখান থেকে রিশাদই করেছেন ৪৮ রান। এই তরুণ কতটা তাণ্ডব লীলা চালিয়েছেন লঙ্কানদের ওপর বিশেষ করে হাসারাঙ্গার ওপর তা পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। রিশাদের মাত্র ১৮ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ৫টি বাউন্ডারির সাথে ওভার বাউন্ডারি ছিল ৪ টি। অর্থাৎ ৪৪ রানই রিশাদ করেছেন বাউন্ডারি সাজিয়ে।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সবক’টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশকে ২৩৬ রানের টার্গেট দেয় শ্রীলঙ্কা। জবাবে ব্যাট করতে নেমেই ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে প্রথম জুটি হিসেবে নামা আনামুল আর তানজিদ মিলে ৫০ রান গড়ার পর আনামুল ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন তানজিদ তামিম। তবে তামিম স্কোয়াডে এসেছেন সৌম্যের কানকাশন বদলি হিসেবে। আর এ সুযোগ তামিম কাজে লাগিয়েছেন বেশ ভালোভাবেই। টপ অর্ডারের আসা যাওয়ার মাঝে ৮১ বলে ৮৪ করে বাংলাদেশকে জয়ের ভিত গড়ে দেন মূলত এই তরুণ ওপেনারই।
এরপর মুশফিক-মিরাজের জুটি বাংলাদেশকে জয়ের সুবাস দিলেও মিরাজ ফিরে গেলে আবারো কিছুক্ষণের জন্য ব্যাকফুটে চলে যায় শান্তরা। তবে সেখান থেকে দলকে একেবারে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দেন রিশাদ হোসেন।
অবশ্য অল্পের জন্য রিশাদ ভাঙতে পারেননি লিটন দাসের (১৮ বলে ৫০ রান) বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড। তবে রিশাদের ব্যাটে ঠিকেই বাংলাদেশ জিতে নিয়েছে ২-১ এ ওডিআই সিরিজ। আর এমন ইনিংসে ম্যান অব দ্য ম্যাচও উঠেছে তরুণ এ অলরাউন্ডারের হাতে। সিরিজ সেরা হয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
