সন্তান জন্মদানের পর নারী ফুটবলার রাজিয়ার মৃত্যু
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রাজিয়া খাতুন আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার পুত্র সন্তান জন্মদানের কয়েক ঘন্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
জানা গেছে, সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় তার। সেই রক্তক্ষরণেই মারা যান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের মিডিয়া এক্সিকিউটিভ খালিদ মাহমুদ নওমী।
এ ছাড়া কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন ও রাজিয়ার ভাই মো. ফজলুল হক তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফজলুল হক বলেন, ২০২০ সালে চট্টগ্রামের কাপ্তাই এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা ইয়াম রহমানের সঙ্গে তাঁর বোন রাজিয়ার বিয়ে হয়। গতকাল রাত ১০টার দিকে বাবার বাড়ি লক্ষ্মীনাথপুরে স্বাভাবিকভাবে রাজিয়া একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর রাজিয়া সুস্থ ছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত সাড়ে তিনটার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ফজলুল হক আরও বলেন, দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রাজিয়া সবার ছোট। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব–১৯ জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলেছেন। এর আগে বয়সভিত্তিক দলে দেশে ও দেশের বাইরে ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুরে খেলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কারও নিয়েছেন। তিনি বলেন, কালীগঞ্জ উপাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে রাজিয়ার সুখ্যাতি বাড়ে। পরে কুশুলিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পড়ালেখার পাশাপাশি ফুটবল অনুশীলন করতেন।
রাজিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তিনি বলেন, ‘খুব খারাপ লাগছে। রাজিয়া অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ ছিল। খেলতোও দারুণ। আমি তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক। তার পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দিক। ’
রাজিয়ার স্বামী ইনাম রহমান বলেন, তাঁর বাড়ি রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার পাম হাউস গ্রামে। তিনি অনূর্ধ্ব–১৬ দলের খেলোয়াড় ছিলেন। পরে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে অনূর্ধ্ব–১৮ দলে খেলেন। তখন রাজিয়ার সঙ্গে পরিচয়। তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালে ডেলিভারি করানোর জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে তিনি টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি না করে বাড়িতে রেখে ডেলিভারি করায় রক্তক্ষরণে তাঁর স্ত্রী মারা যান।
২০০১ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া রাজিয়া বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উত্থানের শুরুর দিকের একজন। এএফসি অ-১৪ রিজিওনাল ( সেন্ট্রাল ও দক্ষিণ এশিয়া) চ্যাম্পিয়নশিপে ২০১৩ ও ১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন তিনি৷ এরপর অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও খেলেছেন। ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
রাজিয়ার মৃত্যুতে দেশের ফুটবলে নেমে এসেছে গভীর শোক। তার সতীর্থ এবং ফুটবল সংশ্লিষ্ট সকলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক বার্তা দিয়েছেন।
