জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা ও পাঁচটি ফজিলত
সংগৃহীত ছবি
ইসলামে সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মুসলমানদের জন্য দিনটি বিশেষ ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলের সুযোগ নিয়ে আসে। পবিত্র এই দিনকে আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদির জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করেছেন।
হাদিসে জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মুসলমানরা সবার আগে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে। অন্য জাতিগুলোর ওপরও বিশেষ ইবাদতের জন্য একটি দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তারা এ বিষয়ে মতবিরোধ করেছিল। পরে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জুমার দিনের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ৮৭৬, সহিহ মুসলিম: ৮৫৫)
জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ ফজিলত
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
প্রথমত, এই দিনে আল্লাহ তাআলা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন।
দ্বিতীয়ত, এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।
তৃতীয়ত, এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-এর মৃত্যু হয়েছে।
চতুর্থত, জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন।
পঞ্চমত, এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৫৪৮, সুনানে ইবনে মাজাহ: ১০৮৪)
জুমার দিন সব সৃষ্টির কাছে বিশেষ
হাদিসে এসেছে, সূর্য উদয় ও অস্ত যাওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। মানুষ ও জিন ছাড়া অন্যান্য প্রাণীও জুমার দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কায় ভীত থাকে। (মুসনাদে আহমাদ: ৭৬৮৭)
জুমার রাতে আমল পেশ করা হয়
জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের আমল কবুল না হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ: ১০২৭২)
জান্নাতবাসীদের জন্য বিশেষ আনন্দের দিন
ইসলামি বর্ণনায় জুমার দিনকে জান্নাতবাসীদের জন্য বিশেষ আনন্দ ও প্রাপ্তির দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ দিন জান্নাতিরা আল্লাহ তাআলার বিশেষ নিয়ামত লাভ করবেন। তাঁদের জন্য থাকবে আনন্দ, সম্মান ও অনন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা। জান্নাতে আল্লাহর দীদার লাভ হবে মুমিনদের জন্য সর্বোচ্চ নিয়ামত।
সব মিলিয়ে জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ইবাদত, দোয়া, তওবা ও নেক আমল বাড়ানোর এক বিশেষ সুযোগ। তাই এ দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে নামাজ আদায়, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: , সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও অন্যান্য হাদিসগ্রন্থ।
