চব্বিশের বিপ্লব: ব্যান্ডজগতের সংহতি
জুলাই জুড়ে আমাদের এক অস্থির সময় কেটেছে, তারুণ্যের রক্তে এসেছে বিপ্লব। বৃষ্টির মতো সৃষ্টি হয়েছে গণজোয়ার। সেই গণজোয়ার স্বৈরশাসকের মসনদ কাঁপিয়ে দিয়ে স্বৈরশাসককে বাধ্য করেছে গদি ছাড়তে। ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যূত্থানের মাধ্যমে হওয়া এ বিপ্লব ইতিহাসের পাতায় মোটা দাঁগে লেখা থাকবে। জুলাই পেরিয়ে আগস্ট এসেছে, শ্রাবণের দিনে বৃষ্টির মতো সৃষ্টি হয়েছে গণজোয়ার।
"চব্বিশের বিপ্লবে" ব্যান্ডের গানগুলো অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে শূন্য'র "শোনো মহাজন"। শূন্য'র এই লিরিকাল ট্রিটমেন্ট এই বিপ্লবেকে খুব সুন্দরভাবে পোট্রে করেছে। একইভাবে নেমিসস "গণজোয়ার" গানটিও তরুণদের রক্ত গরম করে দিয়েছে তা নিঃসন্দেহেই বলতেই হবে। একইভাবে ভূমিকা রেখেছে অর্থহীনের "আমজনতা" গানটিও। এছাড়াও এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে অনেক ব্যান্ড ও শিল্পীরা গান প্রকাশ করেছেন। অনি হাসানের কম্পোজিশনে কাজী জোহাদ ইয়াজদানী'র কন্ঠে "আমরা বীর" গানটি মুক্তি দেওয়া হয় এই আন্দোলনের উর্ধ্বভাগে।
রায়েফ আল হাসান রাফা'র মিউজিক কম্পোজিশনে, শেখ ইশতিয়াক, প্রবর রিপন, সাকিব চৌধুরী, রাফা'র কন্ঠে "শেকল পড়া ছল" গানের মাধ্যমে কন্ঠে-যন্ত্রে প্রতিবাদ হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি বিপ্লোবের আড়ালে এইসব ক্রিয়েটিভ ব্যাপার বিপ্লবের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রবর রিপনের আইকনিক পোয়েট্রি, মৃত্যু উৎপাদন কারখানা।" প্রবর রিপন সাইকেডেলিক মিউজিক আর্টিস্ট, তিনি তার শিল্পী সত্ত্বা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন ইস্যুতে। প্রতিবাদের প্রবর রিপনই গানে গানে বলেছেন, "বন্ধ হোক এই মৃত্যু উৎপাদন কারখানা"। দিব্য নাসেরের গিটার ট্রিবিউট সত্যিই অসাধারণ।
প্রিন্স মাহমুদকে বরাবরই সোস্যাল মিডিয়ায় সরব থাকতে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে। এই আন্দোলনে তিনি সবাইকে নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন, গলা উঁচিয়ে অন্যায়কে অন্যায় বলেছেন। রাস্তায় নেমেছে গোটা শিল্পী সমাজ। চাঁন্দের গাড়ি ব্যান্ডের "লাল জুলাই" কাকতালের "রক্তগরম মাথা ঠান্ডা" গানগুলোও এই আন্দোলনকে ঘিরে প্রকাশ করা হয়েছে। আপেক্ষিক ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, তানজির শুদ্ধ'র লেখা গানে কন্ঠ দিয়েছেন রাফি আলম। "মৃত্যুর কোরাস" নাম গানটির। আপেক্ষিক ব্যান্ডের "কারাগার" গানটিও এই বিপ্লবের সাথে ভালোভাবে রিলেট করে। আরও অনেক ব্যান্ডের গান এই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে আসছে।
আরও একবার স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ, সেক্ষেত্রে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির এই চর্চা যাতে বাঁধাহীনভাবে এগিয়ে যেতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে আমাদের সবার। বিপ্লবটা আসলে আসলে অনেকদিক দিয়েই আসতে হয়, "ব্যান্ডগুলোর'র একেরপর এক "জয় বাংলা" কনসার্ট বর্জনের ঘোষণার মাধ্যমে এই শৈল্পিক বিপ্লব অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। দেশের উল্লেখযোগ্য ব্যান্ডগুলো। এই বর্জনের শুরুটা করেছিলেন সিনা হাসান। এরপর ক্রিপটিক ফেইট, নেমেসিস, আরবোভাইরাস, পপাই বাংলাদেশ, শিরোনামহীন, মেঘদল, ইন্দালো, দৃক ও অ্যাভোয়েডরাফা, ওয়ারফেইজ থেকে শুরু করে অনেক ব্যান্ডই "জয় বাংলা কন্সার্ট" বর্জন করে।
এই আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সংহতি প্রকাশ করেছে সাধারণ ছাত্রদের সাথে।
