মামুনুল হককে ইঙ্গিত করে বাবুনগরীর মন্তব্য, কওমি আলেমদের ক্ষোভ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কওমি অঙ্গনের কয়েকজন আলেম। তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রামের একটি ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মাওলানা মামুনুল হককে ইঙ্গিত করে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা চলছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ওই মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাবুনগরী জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনে ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কথা বলেন। এ সময় তিনি মামুনুল হককে ইঙ্গিত করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বাবুনগরীর বক্তব্যের সমালোচনা করে গাজীপুরের সালনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস জুবায়ের আহমদ বলেন, কারও রাজনৈতিক অবস্থান বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে। তবে কাউকে গালাগাল করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের মন্তব্যে মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
কওমি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা রোকন রাইয়ান বলেন, এ বক্তব্যের জন্য বাবুনগরীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এটা অসভ্যদের ভাষা। কাছের মানুষদের উচিত তাকে বিষয়টি বোঝানো। ভুল হলে তা স্বীকার করে নেওয়াই ভালো।
উত্তরার বাইতুল মুমিন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন বলেন, মন্ত্রী, হাজারো আলেম ও গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতিতে প্রকাশ্য মঞ্চে একজন সম্মানিত শায়খুল হাদিসকে এভাবে অপমান করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শিক্ষক আবু নাঈম ফয়জুল্লাহও। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে কওমি অঙ্গনের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মাদরাসায়ে রাহমানিয়া আব্বাসিয়ার শিক্ষক জারির আহমদও বাবুনগরীর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যাকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করা হয়েছে, তিনি একজন সম্মানিত শায়খুল হাদিসের সন্তান। তার বাবা দীর্ঘ ৬০ বছর বুখারি শরিফ পড়িয়েছেন এবং বাংলায় বুখারি শরিফের অনুবাদ করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন কওমি অঙ্গনের ব্যক্তি ও শিক্ষকও বাবুনগরীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। ইসলামিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মুহিব ইমতিয়াজ বাবুনগরীর একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘থেকে থেকে মোরা খুড়ো হয়ে যাই বুড়োদের সোহবতে।’
মাহমুদুল হক জালিস লিখেছেন, ‘যে নিজের জবান হেফাজত করতে পারে না, তার দায়িত্বে পড়েছে ইসলাম হেফাজতের ভার!’ আরাফাত নূর ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘আমাদের মুরুব্বি আকাবির যেহেতু গালি দিয়েছেন, তাহলে মনে হয় এটা সওয়াবই হবে।’
