পিএসসি সদস্যদের চা পানের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এর আগে একই জায়গায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য এবং বৈষম্য নির্মূলের জন্যই এ দেশের সন্তানেরা আন্দোলনে নেমেছিল উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার ও ফ্যাসিবাদী শক্তি মিলে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলন স্মরণ করিয়ে দেয়, অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে মেধা হত্যা করা হয়েছে। একই পথে হাঁটছে নব্য ফ্যাসিবাদ। সে কারণে মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি হচ্ছে না, নিয়োগ হচ্ছে না, বদলি হচ্ছে না। দলীয় বিবেচনায় সবকিছু করা হচ্ছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, আহত, পঙ্গুত্ববরণসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃশ্যমান বিচার এখনো হয়নি। কিছু রায় হয়েছে, কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে আবার নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার অভিযোগ তুলে সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপির বিভিন্ন নেতা সংসদ নির্বাচনে তাঁদের দলের ভোটের ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের ভোট বলে দাবি করেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানের ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথনেও এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার ভয়ে বিএনপি এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ করছে না বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাতের বিষয়ে সরকারের অভিযোগকে ভুয়া ও অসত্য বলে দাবি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের কাছে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। তাঁর দাবি, সরকার গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই রিপোর্ট যে আপনারা বানিয়ে দিয়েছেন—এটা বুঝতে আমাদের আর দেরি নাই।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশে খুন, মাদক, ঘুষ, কালোবাজারি ও দুর্নীতি বেড়েছে। তাঁর দাবি, গত ছয়–সাত মাসে দলীয় কোন্দলে ক্ষমতাসীন দলের ৪০ জন কর্মী নিজেদের দলের লোকজনের হাতে খুন হয়েছেন। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
