আজ ফের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করবে ছাত্রদল
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগসহ তিন ইস্যুতে আজ ফের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এর আগে নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছাত্রদলের সভাপতি ছাড়াও ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান।
আলোচনা শেষে নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি ইস্যু নিয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন সেই বক্তব্য শুনেছে। বিষয়গুলো তারা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের মতো অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দাবি আদায় না হওয়ায় আগামীকাল বেলা ১১টায় আবারও নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।’
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘেরাও চলবে বলে জানান ছাত্রদল সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আরেকটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ২২ জানুয়ারি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে। এরপর যদি আর কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, মব তৈরি করা হয় তাহলে ছাত্রদল বসে থাকবে না।’
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, প্রতিটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করেছে। তারা বলেছে ছাত্রদল নাকি ছাত্র সংসদ নির্বাচন চায় না। তারই ধারাবাহিকতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও মব তৈরি করা হয়েছে। বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তারা এগুলো বিবেচনা করবে, এমনটাই আশা।
এর আগে বেলা ১১টা থেকে ইসি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নেন। কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটির কয়েক হাজার নেতা–কর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ছাত্রদলের তিনটি ইস্যু হচ্ছে—১. পোস্টাল ব্যালটসংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
