মিরপুরে পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
সংগৃহীত ছবি
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল রাজধানীর মিরপুর। রোববার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমিকদের ওপর লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ।
রোববার দুপুর ১২টার দিকেও মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় সংঘর্ষ চলছিল। গোলচত্বর পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বন্ধ ছিল যান চলাচল। আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে আন্দোলনকারীদের একজনকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ বক্সে রাখার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চারদিক থেকে আন্দোলনকারীরা গোলচত্বরের পুলিশ বক্সের দিকে এগিয়ে এলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার বলেন, “এখনও সংঘর্ষ চলছে। আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।” এর আগে সকাল ৯টার দিকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করে ট্রাফিক পুলিশ।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছে।
মিরপুর জোন ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুল হক বকশী জানান, পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় মিরপুর-১০ নম্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প পথে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগের দিন শনিবারও মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা। তাদের আন্দোলনের কারণে এসব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবারও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নেন।
পরে সেখান থেকে সরে গিয়ে পূরবী সিনেমা হলের সামনে মেট্রোরেলের ১১ নম্বর স্টেশন এলাকায় আবারও সড়ক অবরোধ করেন তারা। দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধের পর বিকালে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন পোশাক শ্রমিকরা। এর মধ্যে রোববার পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ। তবে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণার মধ্যেই মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
