ডাঙ্গার কৃষিজমিতে আওয়ামী লীগ নেতার বালুমহাল বন্ধের নির্দেশ
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম রানার বিরুদ্ধে ওই এলাকার কৃষক মিলন মিয়ার ১০৭ শতাংশ তিন ফসলি উর্বর কৃষি জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জসিম রানাসহ তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মিলন মিয়া। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ নিয়ে বুধবার সকালে দ্য নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের। পরে অভিযুক্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতা জসিম রানার বালুমহালে হানা দিয়ে বালু তোলা বন্ধ করে দেন উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিকেলে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই বালুমহাল বন্ধ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী কৃষক মিলন মিয়ার কৃষিজমিও দখলমুক্ত করেন তিনি।
দখলদারদের হাত থেকে নিজের কৃষিজমি রক্ষা করতে পেরে স্থানীয় প্রশাসনসহ গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কৃষক মিলন মিয়া বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা জসিম রানা দলবল নিয়ে আমার ১০৭ শতাংশ তিন ফসলি কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে বালু ফেলানোর জন্য আড়ত গড়েছিল। এই জমিটুকুই আমার শেষ সম্বল ছিল। উপজেলা প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মী ভাইদের জন্য জমিটা দখলমুক্ত হয়েছে। এ কারণে সবার কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, মাত্র কয়েকদিন হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেছি। অভিযোগের তথ্য পেয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, আপাতত ওই বালুমহালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক মিলন মিয়ার কৃষিজমিতে জোরপূর্বক যেন কেউ বালু না ফেলতে পারে, সেই জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
