যুবসমাজ জাতির অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত
দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এগিয়ে নিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি যুবসমাজকে আধুনিক ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি।
জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল রোববার দিবসটি পালিত হবে। শনিবার দেওয়া বাণীতে তিনি দেশের যুবসমাজকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নির্মাণ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি সংকট উত্তরণ এবং উন্নয়ন-অগ্রগতিতে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য।
যুবশক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ গঠনে যুবকদের সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়, যা পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিবর্তিত হয়। মাঠপর্যায়ে যুব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্য আরও এগিয়ে নিতে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তরুণদের কারিগরি ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরিতে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরে পর্যায়ক্রমে সব জেলায় এসব কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ায় যুব কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে বাণীতে তিনি বলেন, অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ সফল আত্মকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁরা মাসে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে এর চেয়েও বেশি আয় করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।
প্রশিক্ষিত যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা যুবঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, প্রকল্প স্থাপন ও যুবকদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
দেশ ও জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর আত্মকর্মী যুবক ও যুব সংগঠকদের জাতীয় যুব পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন যুব আত্মকর্মী ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। এ বছরও যারা পুরস্কার পাচ্ছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি।
দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অনলাইন কাজে যুক্ত হয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারছেন।
এ ছাড়া ইমপ্যান্ট প্রকল্পের মাধ্যমে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখার কথাও বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি। যুবসমাজকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ চালুর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো উদ্যোগ যাতে অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপের জন্য এ ধরনের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—জাতীয় যুব দিবস ২০২৬-এর এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে যুবসমাজ অগ্রগমন, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের অগ্রযাত্রায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন তিনি।
