তাহসিফের মৃত্যুর তদন্তে পিবিআইয়ের হেফাজতে দীপ
সংগৃহীত ছবি
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ সময় কাটানো বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে (দীপ) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়।
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার আগে দুজন কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তাঁদের চলাচলসংক্রান্ত দীপের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন তাহসিফ ও দীপ আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। পরে তাঁদের চলাচলের বিভিন্ন স্থান, সময় এবং তাঁদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এসব তথ্যের সঙ্গে অন্যান্য আলামত ও সংশ্লিষ্ট স্থানের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁরা যেসব স্থানে গিয়েছিলেন বলে দীপ জানিয়েছেন, সেসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে তাহসিফের বাসার নিচে তাঁদের দেখা হওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের দিকে দীপ মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন। কিছুক্ষণ পর তাহসিফ নিচে নেমে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের সঙ্গে কথা বলতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি।
দীপ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য একটি ওয়ার্কশপে যান। পরে উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত কুকরুক্কু রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খান। সেখান থেকে বের হয়ে দুটি মোটরসাইকেলে করে হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গে যান। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাঁদের পথ আলাদা হয়ে যায় বলে দাবি করেন দীপ। এরপর তিনি নিজের বাসায় ফিরে গেলেও তাহসিফ কোথায় গিয়েছিলেন, তা জানেন না বলে জানান।
তার দাবি, হাউজ বিল্ডিং এলাকায় আলাদা হওয়ার পর তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান। পরে তাকে ফোনে না পেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে পকেটে থাকা আইফোন ও অন্যান্য আলামতের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে মারা গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্টরা দীপের দেওয়া বক্তব্য, তাদের চলাচলের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন।
