কক্সবাজার রিসোর্টে আগুনে প্রাণ গেল ঢাবি-জবি শিক্ষার্থীর
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি ‘টুপ টুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা।
এ ঘটনায় নাবিলার পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর তিন বোন, এক ভাই ও এক ভাগনে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুটি তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা। অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকা রিসোর্টটিকে গত জুনে পরিদর্শনের পর ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল ফায়ার সার্ভিস।
ঢাবি শিক্ষার্থী নাফিসের মৃত্যুতে শোক
নাফিস তেহামীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। শোকবার্তায় তিনি বলেন, নাফিস তেহামীসহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।
উপাচার্য নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নিহত নাফিসের পরিবারের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন উপাচার্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাফিস তেহামীর বাড়ি বরগুনার আমতলী থানার দক্ষিণ চুনাখালী গ্রামে।
নাবিলার পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু
অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন।
শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেন তাঁরা।
এ ঘটনায় নাবিলার তিন বোন ফারিয়া কবির (৩৩), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন তাঁর ভাই নাসির উদ্দিন (২৫) এবং বড় বোন ফারিয়ার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূর।
একই পরিবারের ছয় সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে।
ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও চলছিল রিসোর্ট
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘টুপ টুপ’ রিসোর্টটি কাঠের তৈরি। ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুটি তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল ফায়ার সার্ভিস।
এরপরও রিসোর্টটিতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা চালু ছিল। অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি এবং আগুনের ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি নতুন করে পর্যটনকেন্দ্রের আবাসন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্ট ও হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্বও সামনে এসেছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মধ্যে সাতজনের পরিচয় জানা গেছে বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী ও লায়লা জাহান নাবিলা রয়েছেন।
