হালাল পণ্যের মান ও সনদ প্রদানের দায়িত্ব এখন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের
দেশে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ, হালাল মানদণ্ড প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং হালাল সনদ প্রদানের বিষয়গুলো এখন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় এসেছে। এ লক্ষ্যে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশোধিত কার্যবিধিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত শিডিউল-১-এর ৩৪ নম্বরে ‘মিনিস্ট্রি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ শিরোনামের অধীনে নতুন দায়িত্ব হিসেবে ‘হালাল স্ট্যান্ডার্ড ও সার্টিফিকেশন-সংক্রান্ত বিষয়’ যুক্ত করা হয়েছে।
এর ফলে দেশে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ, হালাল মানদণ্ড প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং হালাল সনদ দেওয়ার বিষয়গুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো এ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মান ও সনদ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুসলিম ভোক্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও সেবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও একটি সুসংগঠিত ও মানসম্মত সনদ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় হালাল মান ও সনদ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ খাতে সরকারি নীতিগত সমন্বয় আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হালাল পণ্যের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ, সনদ প্রদানে স্বচ্ছতা এবং ভোক্তাদের আস্থা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে হালাল সনদ প্রদানের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের বিভিন্ন উৎপাদনকারী ও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের হালাল পণ্য ও সেবার বিষয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সনদ দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও সেবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে হালাল পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন, সনদ প্রদানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
