ইতালি নয়, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কাউসার পাড়ি দিলেন শেষ ঠিকানায়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সংবাদদাতা: দেড় মাস আগে দেশে এসেছিলেন ইতালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারক হোসেন কাউসার। কিন্তু এবার আর একা নয়, স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গেই ফিরতে চেয়েছিলেন। পরিকল্পনামাফিক আগামী ২০ মার্চ সপরিবারে ইতালি পাড়ি জমানোর কথা ছিলো। ভিসা-টিকিটও প্রস্তুত। অপেক্ষা মাত্র আর কয়েকটা দিনের। কিন্তু তার আগেই অপেক্ষার পাল শেষ হলো। তবে ইতালি নয়, সপরিবারে পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে তারা মারা যান। কাউসারের পারিবারের নিহত অন্যান্য সদস্যরা হলেন- স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, মেয়ে কাশফিয়া ও নূর, ছেলে আব্দুল্লাহ। কাউসার সপরিবারে ওই ভবনের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। তাদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে। তারা রাজধানীর মধুবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহত কাউসারের গ্রামে চলছে শোকের মাতম। বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। শোকে স্তব্ধ এলাকাবাসী। গ্রামবাসী বলছেন, একসঙ্গে একই পরিবারের পাঁচ কবর তারা এরআগে কখনও খুঁড়েননি।
গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, শুক্রবার কাউসারের বাড়িতে আনা হয় পাঁচটি খাটিয়া। সারিবদ্ধভাবে খোঁড়া হয় পাঁচটি কবর। বাদ আসর জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা।
নিহত কাউসারের চাচাতো ভাই সৈয়দ আবুল ফারাহ তুহিন জানান, দেড় মাস আগে ইতালি থেকে দেশে ফেরেন কাউসার। বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কাউসার, তার স্ত্রী স্বপ্না, মেয়ে কাশফিয়া ও নূর এবং ছেলে আব্দুল্লাহ নিহত হন।
তিনি আরও জানান, দুপুরে রাজধানী থেকে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে রওয়ানা দিয়েছেন স্বজনরা। বাদ আসর জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে নারী-শিশুসহ ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪১ জনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে ৩৮টি মরদেহ।
