টিকা নিয়ে সুখবর দিলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ও টিকার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ-সমালোচনার মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অন্তত ১০ ধরনের টিকার বড় চালান শিগগিরই দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে প্রথম চালানটি একটি কার্গো ফ্লাইটে দেশে আসতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও টিকা আসবে। প্রথম চালান গ্রহণে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি—এই ছয় ধরনের গুরুত্বপূর্ণ টিকার কেন্দ্রীয় মজুদ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। বিশেষ করে পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি টিকার মজুদ একেবারেই নেই, যা শিশুস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও নিয়মিত কর্মসূচিতে এমআর টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা প্রদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ১২ ধরনের রোগ প্রতিরোধে ৯টি টিকা দেওয়া হয়, যার মধ্যে শিশুদের জন্য রয়েছে সাতটি নিয়মিত টিকা। এসব টিকার মাধ্যমে যক্ষ্মা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি, নিউমোনিয়া, হাম, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করা হয়। এছাড়া নারীদের জন্য রয়েছে এইচপিভি ও টিডি টিকা।
ইপিআই সূত্র জানায়, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়েই বেশ কয়েকটি টিকার কেন্দ্রীয় মজুদ শেষ হয়ে যায়। যদিও মাঠপর্যায়ে কিছু টিকা এখনও রয়েছে, তবে তা খুব বেশি দিনের জন্য যথেষ্ট নয়।
১৬ এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বিসিজি টিকার মজুদ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকলেও ওপিভি, টিডি, পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি টিকায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ওপিভির ক্ষেত্রে চাহিদার বিপরীতে মজুদ অত্যন্ত কম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইপিআই কর্মকর্তা জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বড় পরিসরে সব ধরনের টিকা দেশে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৯ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
