নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১৬১৩ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে এক হাজার ছয়শত তের কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। বুধবার (২৭ নভেম্বর) গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় মামলাটি করা হয়।
সংস্থাটি শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, নাফিস সরাফাত তার সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমামকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৮ সালে রেইস ম্যানেজমেন্ট পিসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন করেন। প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়েই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার সুযোগ পায়। পরে ফান্ডের অর্থ অপব্যবহার করে ফারমার্স ব্যাংক,
বর্তমানে পদ্মা ব্যাংকের শেয়ার কেনেন তারা। এভাবে পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালক পদও অর্জন করেন নাফিস সরাফাত। তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদকে কৌশলে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালকও করা হয়।
সিআইডি জানায়, ফান্ডের টাকা দিয়ে 'মাল্টি সিকিউরিটিজ 'মূলহোতা' নামের একটি ব্রোকার হাউজ ক্রয় করে সেই ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যাপক প্রতারণা চালানো হয়। পাশাপাশি পদ্মা ব্যাংকের টাকায় 'স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি' নামীয় ফান্ডে বিনিয়োগসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে সম্পদ গড়ে তোলা হয়। রাজউক থেকে প্লট হাতিয়ে নেওয়া, ভূয়া হিসাব খোলা, বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির নামে টাকা লেনদেন—সবমিলে জালিয়াতি বিস্তৃতি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক।
ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী ও ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাতের নামে দেশে-বিদেশে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
বিদেশেও তাদের নামে কানাডা, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে ৯০টির বেশি হিসাব পাওয়া গেছে। দুবাইতে রয়েছে ফ্ল্যাট ও ভিলা। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডেও নিবন্ধিত রয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান।
বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থ পাচার, বাড়ি–ফ্ল্যাট ক্রয়সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পরই সিআইডি তদন্ত শুরু করে।
অনুসন্ধান শেষে দেখা যায়, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অভিযুক্তরা সর্বমোট ১৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এ কারণে নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হয়।
রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
