মরুর চেয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি, শেষ কবে?
হিটস্ট্রোকে মৃত্যু বাড়ছে
দেশজুড়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস প্রাণিকূল। আকাশে মেঘের দেখা নেই। দেশে বিরাজ করছে মরুর চেয়েও বিপর্যয়কর আবহাওয়া। ইতোমধ্যে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে সারা দেশে অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই অবস্থায় প্রাণ ওষ্ঠাগত মানুষের স্বাভাবিক প্রশ্ন কবে মুক্তি মিলবে তাদের?
কিন্তু আপাতত সুখবর নেই আবহাওয়া অফিসের কাছে। বৃষ্টির মাধ্যমে আশু স্বস্তি আসবে এমন কোনও বার্তা দিতে পারছে না তারা। কবে এই তাপপ্রবাহ শেষ হবে, সে ব্যাপারে দ্য নিউজকে ধারনা দিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের জেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক।
তিনি জানান, পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম বছর হতে চলেছে ২০২৪ সাল। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে বাংলাদেশ এবং আশেপাশের এলাকায়। বাংলাদেশের পশ্চিম অংশ, বিশেষ করে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের প্রায় সব এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁয়ে গেছে ৪২/৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াসে, যার বাস্তব অনুভব ৪৫/৪৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এমন গরম আবহাওয়া, আরবের মরু অঞ্চলকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ ড. মল্লিক।
চলতি মৌসুমে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ২০ এপ্রিল (শনিবার) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোর ও পাবনায় ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় টানা কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির ওপরে। তীব্র তাপপ্রবাহে বেড়ে গেছে হিটস্ট্রোক। আজ ও গতকাল হিটস্ট্রোকে মারা গেছে অন্তত ৮ জন। এরমধ্যে পাবনায় দুই জন, চুয়াডাঙ্গায় দুইজন, ঝালকাঠিতে একজন, নরসিংদীতে একজন, মেহেরপুরে একজন এবং গাজীপুরে একজনের মৃত্যু হয়।
আবহাওয়ার সর্বশেষ মানচিত্রে দেখা যায়, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে বাংলাদেশের খুলনা ও পশ্চিমবঙ্গে। আবহাওয়াবিদ কামরুল আহসান জানান, বর্তমানে দেশজুড়ে চলা তাপপ্রবাহ শেষ হতে সময় লাগবে আরও এক সপ্তাহ। অর্থাৎ, এপ্রিল মাসের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে তাপপ্রবাহ। তবে তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় আর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।
তাপপ্রবাহ কবে শেষ হবে, এমন জিজ্ঞাসার জবাবে আবহাওয়াবিদ ড.আবুল কালাম মল্লিক জানান, এপ্রিল মাসের শেষ দিকে দেশের আকাশে আর্দ্র বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তখন বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টি বেড়ে যাবে সারাদেশে। এ ধরণের ঝড়বৃষ্টি আগে শুরু হবে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে। এভাবে ধীরে ধীরে সারাদেশে বৃষ্টির মাধ্যমে কমে যেতে পারে তাপমাত্রা। অর্থাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরুর পর তাপপ্রবাহ শেষ হতে সময় লাগবে অন্তত ২-৩ দিন।
