অপপ্রচারের জবাব দিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর
নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেইজে বক্তব্য দেন পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ
নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে অসত্য, বিকৃত তথ্য প্রকাশ করে সম্মানহানি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ। ঈদের আগে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এসে প্রায় ২৫ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি। শনিবার ২০ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে আপলোড হয় এ বক্তব্য, যা ছিল বেশ গোছানো। ভিডিও’র থাম্বনিল ছিলো ’অপপ্রচারের জবাব’ নামে। আর টাইটেলে লেখা ছিলো, ‘আমার কিছু কথা’। স্ক্রিপ্ট লিখে তা দেখে পয়েন্ট আকারে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন পুলিশের সাবেক এ আইজি। বক্তব্যের শুরুতে ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান বেনজির আহমেদ।
বক্তব্যে নিজের সহায়-সম্পদ এবং প্রতিবেদনে তুলে ধরা অভিযোগ সম্পর্কে কথা বলেন সাবেক এ আইজিপি। তার বক্তব্যের চুম্বক অংশগুলো তুলে ধরা হলো-
বেনজীর আহমেদ বলেন, ”আমি দু’বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। অবসরকালীন সময় স্বেচ্ছাকৃতভাবে পাবলিক লাইফ থেকে দূরে নিরিবিলি জীবন-যাপনের চেষ্টা করে আসছি। চাকরিকালীন সময়ে বিগত ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি বিশেষ গোষ্ঠি কর্তৃক অবিরত ও ক্রমাগত অপপ্রচার, এমনকি ব্যাক্তিগত চরিত্রহননের অপচেষ্টার শিকার হয়েছি।”
পুলিশের আলোচিত এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “সম্প্রতি পত্রিকান্তরে আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কিছু খুবই আপত্তিজনক ও মানহানিকর, বিকৃত এবং অসত্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেই সংবাদের সূত্র ধরে অন্যান্য কতিপয় আউট লেট একই ধরণের সংবাদ পুনরাবৃত্তিক্রমে পরিবেশন করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, দেশের মেইনস্ট্রিম, অর্থাৎ মূল ধরার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এই অসত্য এবং মানহানিকর বিকৃত সংবাদ পরিবেশনে তেমন কোন আগ্রহ দেখায়নি। মূল ধারার সেই সব প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বন্ধুগনের প্রতি আমার এবং পরিবারের অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।” বক্তব্যের এ অংশে তিনি বলেন, “আমার অবসর গ্রহনের প্রায় দু’বছর পরে আকষ্মিকভাবে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে এ ধরণের একটি মানহানিকর, অসম্মানজনক এবং অসত্য সংবাদ কেন পরিবেশিত হলো, সেই আলোচনায় আমি সচেতনভাবে যাবো না। তবে এর কারণ, রাজধানীর সকল সাংবাদিক এবং সচেতন মহলের মুখে মুখে।”
বক্তব্য শুরুর পর্যায়ে নিজের সফলতার কথা তুলে ধরেন বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, “আপনারা জানেন যে, বিগত ১৪ বছরে প্রথমতঃ ঢাকা মহানগরীর পুলিশ কমিশনার হিসাবে, এ মহানগরীর সকল নাগরিকবৃন্দকে সেবা করার সুযোগ হয়েছে। তার পরবর্তীতে ডিজি র্যাব হিসাবে এবং আইজিপি হিসাবে সমগ্র দেশবাসীকে সেবা প্রদানের দুর্লভ সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আমি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করি এবং সেই সঙ্গে বাংলদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সমগ্র জনগনের কাছে আমার বিনয় অবনত চিত্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” এ সময় চাকরি জীবনের ফিরিস্তি তুলেন ধরে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসের জেষ্ঠ্য পদগুলোতে একটানা ১৪ বছর এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ বছর সরকারের চাকরি করেছি। ১৯৯৬-৯৭ সালে আমি কসভোতে শান্তিরক্ষী হিসাবে দায়িত্বপালন করেছি, ২০০০-২০০১ সালে পুনরায় শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করেছি। তাছাড়া সরকার থেকে ছুটি নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তর নিউইয়র্কে ২০০৯ ও ১০ সালে আমি চাকরি করেছি।”
ফেসবুকে এসে রেকর্ডেড ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, “যেহেতু আমি পাবলিক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি, প্রায় ৩৫ বছর রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কর্তব্য পালন করেছি, সেহেতু ব্যাক্তিগত দায়বদ্ধতার অবস্থান থেকে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে প্রকৃত সত্য এবং তুলে ধরাকে একটি নৈতিক তাগিদ আমি ভেতর থেকে অনুভব করছি। তাছাড়া এদেশের মানুষ, যারা আমাকে পছন্দ করেন, ভালবাসেন, সমর্থন করেন, তারা সহ আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, নিকট পরিচিতজন, যারা এ ধরণের অসত্য এবং বিকৃত সংবাদের প্রেক্ষিতে ব্যাক্তিগতভাবে আহত হয়েছেন, ব্যাথিত হয়েছেন, হতাশ হয়েছেন, সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাদেরকে আশ্বস্ত এবং তাদের বিশ্বাসের জায়গাটি সুদৃঢ় করার জন্য আমরা মনে করি, প্রকৃত সত্য তুলে ধরা খুবই জরুরী।” তিনি বলেন, “আমার এই বক্তব্যের লক্ষ্য কাউকে পাল্টা আক্রমন করা নয়, কোন বিদ্বেষ ছড়ানো নয়, ইংরেজিতে যাকে বলে মাস লিঙ্গিং। সেটাকে আমরা সচেতনভাবে এভয়েড করতে চাই। শুধুমাত্র নৈতিক এবং ব্যাক্তিগত দায়বদ্ধতার প্রেক্ষাপটে আমি আমার কথাগুলো বলবো।”
এরপর প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেন পুলিশের সাবেক আইজি। তিনি বলেন, “আমরা প্রকাশিত দুই কিস্তি সংবাদের পুংখানুপুংখ পর্যালোচনা করেছি। এতে মোটামুটি সব মিলিয়ে ৪৫টি তথ্য, অভিযোগ এবং অপমানজনক বক্তব্য সন্নিবেশিত আছে। তার মধ্যে ২৪টি তথ্য বা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কল্পনা প্রসূত। দুইটি বিষয়কে সাতবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। দুইটি বিষয়ের তথ্যকে ভুল এবং বিকৃতভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। বাকী ১০টি অভিযোগ বা তথ্যকে ফুলে ফাঁপিয়ে, শুধু তিলকে তাল নয়, তাল গাছের ঝাড় সমেত বানিয়ে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
‘কৃষিক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য শতকোটি টাকার বিনিয়োগ’ অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “আমার জন্ম শহর গোপালগঞ্জে, ২০১৪ সাল থেকে আমাদের পারিবারিক কৃষি খামার ও কৃষিতে বিনিয়োগ আছে। সে সময় থেকে ১০ বছর ব্যাপি ধীরে ধীরে কৃষি ক্ষেত্রে আমাদের পারিবারিক বিনিয়োগ এবং ব্যবসা চলে আসছে। প্রথমে সেখানে আমাদের পরিবারের সদস্যগন একটি ছোট মৎস্য খামার প্রতিষ্ঠা করে। সেই খামারের আয় থেকে আস্তে আস্তে ব্যবসা বৃদ্ধি হয়। পরবর্তীকালে মৎস্য খামারের পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন বনজ, ফল, ওষধি এবং মসলা জাতীয় বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে ব্যাপক বনায়ন করা হয়।”
কৃষিতে কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বেনজীর আহমেদ বলেন, “কৃষিক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য শত শত কোটি টাকার প্রয়োজন হয়না। প্রকল্প যেখানে রয়েছে, সেখানে যে পরিমান ভূমি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি কোন ক্রমে সঠিক নয়। সত্য এই যে, সেখানে যে পরিমান টাকার জমি কেনা হয়েছে, তার থেকে বেশি আমার পরিবারের ব্যাংক এবং অন্যান্য সূত্র থেকে ঋণ, লোন বা দেনা রয়েছে। এটি মূলত তাদের ব্যবসায়িক আয় এবং অন্যান্য সূত্র থেকে সংগৃহীত লোনের মাধ্যমে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। তাছাড়া এই জমির পরিমান এবং টাকার উৎস সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স ফাইলে সন্নিবেশিত আছে।”
‘শতকোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক স্ত্রী’-এমন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি সরকারী চাকরিজীবি হলেও আমার স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের এদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। আমার সরকারী চাকরি কোন মতেই এদেশে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য করা বা সম্পত্তি অর্জনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে না। এদেশের সংবিধানে তাদের যে সুযোগ রয়েছে, এটা তাদের জন্য কখনও বাধা হয়ে দাড়াতে পারে না। আমার স্ত্রী ও পরিবার সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিজনক মন্তব্য করা হয়েছে। তার পিতা বাংলাদেশের একজন পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। আমার স্ত্রী বিগত ২৪ বছর ধরে ব্যাক্তিগত এবং ব্যবসায়িক আয়ের বিপরীতে সরকারকে ট্যাক্স প্রদান করে আসছে।”
নিজ পরিবারে গোপনীয়তা ভঙ্গের বিষয়ে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর বলেন, “আরও দুঃখের বিষয়, ক্ষোভের বিষয় এই যে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ি প্রত্যেক মানুষের ব্যাক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। কিন্তু এই সংবাদ সমূহে আমার পরিবার সদস্যদের পাসপোর্ট, এনআইডি, তাদের টেলিফোন, ই-মেইল নাম্বার, এক্সপোজ করে দেয়া হয়েছে। এতে তাদের ব্যাক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে লংঘিত হয়েছে।”
‘পূর্বাচলে ৪০ কাঠা জমির উপর ডুপ্লেক্স বাড়ীর অভিযোগ’ সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রতিবেদন দুটিতে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে আমার এবং পরিবারের যে সম্পত্তি উল্লেখ আছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রতিবেদন মোতাবেক ঢাকার কাছে বিঘার পর বিঘা আমার, আমাদের বা আমার পরিবারের কোন জমিজমা নেই। পূর্বাচলে ৪০ কাঠা জমির উপর ডুপ্লেক্স বাড়ী নেই, পূর্বাচলে কথিত বাড়ীর পাশে একই জায়গায় ১০ বিঘা জমি নাই।”
‘বেনজীরের আয় এবং পারিবারিক ব্যবসার বিনিয়োগ আকাশচুম্বী’র অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার ৩৫ বছরের চাকরি জীবনে বেতন-ভাতার যে কাল্পনিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও ভুল এবং খুবই অপমানজনক। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আমার অবসরের পর থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে ! এ ধরণের শব্দ প্রয়োগও খুবই আপত্তিকর। আমাদের পারিবারিক ব্যবসা ২০১৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিগত ১০ বছর ধরে আমাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রকাশ্যে এবং জনসম্মুখে পরিচালিত হয়ে আসছে। আমাদের পারিবারিক মৎস্য প্রজেক্ট, জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত হয়েছে। এছাড়া একাধিক পুরস্কার প্রাপ্ত হয়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে আমাদের মৎস্য চাষের প্রজেক্ট। এটি বছরের পর বছর ধরে তাদের শ্রম ও ঘামের দ্বারা অর্জিত হয়েছে। তাদের এমন চেষ্টাকে এ ধরণের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে বলে মনে করি।”
‘গোপালগঞ্জ সাভানা এগ্রো প্রজেক্টে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ’ অভিযোগের জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, “গোপালগঞ্জে দু’টি কোম্পানীর প্রজেক্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ৫ কোটি টাকা এবং ২০ কোটি টাকা এমনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেন সাধারণ পাঠক মনে করেন, এ দুই কোম্পানীতে আমাদের পরিবার ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আসলে অনুমোদিত মূলধন এবং পরিশোধিত মূলধন এক নয়।” তিনি বলেন, “যে কোম্পানীর কথা বলা হয়েছে, সেটি ব্যবসাতেই আসেনি। মূলত ফান্ডিং বা ফাইনান্সের অভাবে এ কোম্পানী ব্যবসা করছেনা।”
‘প্রকল্প এলাকার নাম বেনজীরের চক’ অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রকল্প এলাকার নাম বেনজীরের চক, এটি প্রতিবেদকের আবিষ্কার। এ নামে কোন জায়গা প্রকল্প এলাকায় নাই। বৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া হয়েছে। চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি কেনার অভিযোগ করা হলেও, এখানে সে সুযোগ নেই। কারণ এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা এবং প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের কাছে। ফলে এমন জায়গায় গায়ের জোরে, শক্তি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি কেনার চিন্তা অসম্ভব কল্পনা।”
‘মগবাজার ও আনন্দ হাউজিং-এ ফ্লাট-বাড়ি’ অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “শুধু মগবাজার নয়, রমনা, সিদ্দেশ্বরী, আশেপাশে কোথাও কোন ফ্লাট-বাড়ি নাই।” ‘আনন্দ হাউজিং-এ ৪৫ কোটি টাকা বাড়ীর’ অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টিনের ছাউনি দেয়া বাড়ীর দাম ৪৫ কোটি টাকা খুবই হাস্যকর।”
বক্তব্যের শেষ দিকে বেনজির আহমেদ অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমার ও পরিবারের সহায়-সম্পত্তির যে মিথ্যা বর্ণনা দেয়া হয়েছে, তার কোন কিছুই আমাদের নাই। যদি কেউ তা প্রমান করতে পারেন, তবে তাকে সেই সহায়-সম্পদ বিনা পয়সায় লিখে দিব।”
