কমছে না সবজির দাম; মাংসের দামও চড়া
শীত শেষ, বসন্তের আগমন হয়েছে । তবুও কমছে না সবজির দাম। প্রায় সকল গ্রহকেরই কথা শীতের ভরা মৌসুম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সবজির দাম কমলো না। এই সময়ে সবজির যে দাম থাকার কথা তার চেয়ে দাম বেশী। দাম কেন বেশী এমন প্রশ্ন করলে দোকানীরা বলেন আমাদের বেশী দামে কিনে আনতে হয়।
এদিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার একজন প্রান্তিক কৃষক হেলালের সাথে সবজির দাম নিয়ে আলোচনাকালে তিনি জানান, গত নভেম্বর থেকে শুরু করে পুরো জানুয়ারী ২০২৪পর্যন্ত ভিষণ কুয়াশা এবং প্রচন্ড ঠান্ডায় বেগুন, টমেটো ও সিমসহ প্রতিটি সবজি গাছের ফুল ঝরে এবং মরে গেছে। ফলে সব সবজির ফলনই প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এ কারণে বাজারেও আমরা পর্যাপ্ত সবজি সরবরাহ করতে পারছি না। তিনি বলেন, চলতি (ফেব্রুয়ারি) মাসের শুরু থেকেই সবজির ফলন বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে প্রতিটি সবজির ফলন বাড়বে এবং দামও কমে আসবে।
এ দিকে আজ শুক্রবার (১৬ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও বেড়ে গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের শিম, মুলা, শালগম প্রতি কেজি ও এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার মধ্যে। এর মধ্যে প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। লাউয়ের দামও ৮০থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া আলুর কেজি ৪০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, টমেটো গাজার ও শসার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, বরবটি ও করলা ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু হোসেন বলেন, বাজারে সরবরাহ ভালো, যে কারণে সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। দীর্ঘদিন পরে সবজির দাম নিম্নমুখী।
এদিকে বাজারে কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। ভোটের আগে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬০০ টাকা পর্যন্ত নামলেও ভোটের পর তা ৭০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে আরও দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা।
গরুর মাংসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মুর্তজা বলেন, রোজা ও কোরবানি সামনে রেখে খামারিরা গরু বিক্রি কমিয়েছেন। সেজন্য বাজারে সরবরাহ কম, দাম বাড়ছে।
এদিকে গরুর মাংসের দাম বাড়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। আলাউদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, অনেকে দামের কারণে গরুর মাংস কেনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। মাঝখানে দাম কমানোয় ক্রেতা বেড়েছিল। এখন আবার দাম বাড়া শুরু করেছে। রমজান মাসে গরুর মাংসের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে কে জানে।
এদিকে বাজারে চড়া দামে আটকে আছে ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। প্রতি হালি বাদামি ডিম ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বড় বাজারে। আর পাড়া-মহল্লার দোকানে প্রতি হালি ডিমের দাম ৫০ টাকা, ডজন ১৫০ টাকা। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে শতক পেরিয়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম এখনো কমেনি। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। একই সঙ্গে চড়া দামে আদা ও রসুন দুই পদই বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে।
অন্যদিকে মুদি বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ১৫০ টাকা, ছোলা ১২০ টাকা এবং মসুর ডাল ১২০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
