পুলকে কাঁপছে প্রেমিকের বুক, শিহরিত প্রেমিকা
আজ পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস
ছবি- সংগৃহিত
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মনের মেলবন্ধন সব সময়ই। সেকারণে প্রকৃতির পরিবর্তন মানুষের মনেও ভিষন প্রভাব ফেলে, পরিবর্তন আনে। প্রকৃতিতে এখন বসন্ত। চারিদিকে নয়নাভিরাম অপরূপ পরিবেশ। বসন্ত রঙে রঙিন হয়েছে উঠছে মানুষের মন। পুলকে কেঁপে উঠছে প্রমিকের বুক, শিহরিত প্রেমিকা । মনে মনে লেগেছে আজ বসন্তের দোলা। আর সেই দোলার উত্তালে যদি যোগ হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস -তাহলে কেমন হয়! সঙ্গে যদি থাকে বাঙ্গালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য অমর একুশে বই মেলা; তাহলে তো আর কথাই নেই!
হ্যাঁ। গত কয়েক বছর ধরে এমনই হচ্ছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেই পড়ছে পহেলা ফাল্গুন। সেই সময়েই থাকছে বাঙ্গালির প্রাণের অমর একুশে বই মেলা। যার ফলে একই দিনে তিন উৎসবের আবহে অন্যরকম এক রুপে রঙ্গে আত্মহারা হয় হৃদয়।
বসন্তের প্রথমদিনে সকাল থেকে চারুকলার বকুলতলায় মিলিত হয়েছেন অনেকে। রঙের আলপনায় ভরে উঠেছে শাহবাগ থেকে চারুকলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর। বাদ নেই বইমেলাও। বিকেলে বসন্তের রঙ আঁচড়ে পড়বে মেলাতেও। পাঠক ও দর্শনার্থীরা সাজবেন বাসন্তি সাজে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণও সেজে উঠবে হলুদ, কমলা, লালসহ নানা রঙে। ফাগুনের আগেই ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে শাহবাগে ফুলের দোকানগুলোও রয়েছে খুব ব্যস্ত। রাজধানীর অলিতে গলিতে বসেছে অস্থায়ী ফুলের দোকান। আগে থেকেই অনেকে ফুল, বেনি কিনে রেখেছেন। কেউ খোপায় ফুল পরে বের হওয়ার জন্য আগের দিন ফুল, বেনি কিনে ফ্রিজে রেখে দিয়েছেন।

বসন্তের প্রথমদিনে বিকেল ৩টা থেকেই খুলে যাবে বইমেলার প্রবেশদ্বার।
ফাল্গুনের ডাকে, বসন্তের আবাহনে সাড়া দিয়ে হাজারো বইপ্রেমী মানুষ সারাদিন যে যেখানেই থাকুক, শেষ বেলায় ছুটে আসবেন বইমেলায়। কেউ আসবেন পছন্দের বই কিনে পছন্দের মানুষকে উপহার দিতে। ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে বই তুলে দিয়ে যেন পাবেন অন্যরকম এক তৃপ্তি। সঙ্গে থাকবে ভালোবাসার গোলাপ। তা হোক যে রঙয়েরই। শুধু গোলাপ নয়; গোলাপের সাথে মিশবে আরো নানা রঙের ফুল। নারীদের মাথায় শোভা পাবে বহু ফুলের বেনি।
আহা ‘আজি এ বসন্তে কত ফুল ফোঁটে কত বাঁশি বাজে কত পাখি গায়..’। কিংবা ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত’। কিংবা ‘ফুলের বনে যার পাশে যাই তারেই লাগে ভালো..।’ কিংবা শাহ আবদুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে.. সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে।’
এসব অমর পংক্তিমালা দেহে-মনে-মননে তরঙ্গায়িত হবে বারবার। দুলে উঠবে মনে মায়ার ও ভালোবাসার খেলা।
লন্ডন থেকে দেশে আসা আহমদ নূর বলেন, বসন্ত এলে আমাদের মন আনচান করতে থাকে। একটা বছর এই দিনে দেশে ছিলাম না। এবছর এই দিনে দেশে আছি। গত বছর দিনটি খুব মিস করেছি। এবার প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘুরে দিনটি উপভোগ করবো। দেশের এই আমেজ কোথাও পাইনি।
আগেই প্রকাশকরা জানিয়েছেন, ‘ বই মেলায় যেমন দর্শনার্থী আসবেন তেমনি আসবেন বইপাগল মানুষও। মেলাকেন্দ্রিক ঘোরাঘুরি শেষে সবাই নিজের জন্য নিয়ে নেবেন প্রিয় লেখকের পছন্দের বই। এ ছাড়া বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় শুধু নিজের জন্যই নয়, অনেকেই প্রিয় লেখকের বইটি কিনে দেবেন একান্ত প্রিয়জন, প্রিয় বন্ধু কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের হাতে।
আজ মেলায় দর্শনার্থীর সঙ্গে পাঠকের সংখ্যা বাড়বে এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন প্রকাশকরা।
