প্রক্টর ও সহপাঠিকে দায়ী করে জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী ফাইরুজ অবন্তিকা আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার রাত ১০ টার পর তিনি আত্মহত্যা করেন।
এরআগে তিনি সহপাঠি আম্মান সিদ্দিক ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
জানা যায়, রাত ১০টার দিকে প্রথমে ফেসবুকে পোস্ট দেন অবন্তিকা। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে সহপাঠিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অবন্তিকা তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, 'আমি যদি কখনো সুইসাইড করে মারা যাই, তবে আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে আমার ক্লাসমেট আম্মান সিদ্দিকী ও সহকারী হিসেবে তাকে সাপোর্টকারী জগন্নাথের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম। আম্মান যে আমাকে অফলাইন অনলাইনে থ্রেটের ওপর রাখতো সে বিষয়ে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেও আমার লাভ হয় নাই। দ্বীন ইসলাম আমাকে নানানভাবে ভয় দেখায় আম্মানের হয়ে যে, আমাকে বহিষ্কার করা ওনার জন্য হাতের ময়লার মতো ব্যাপার। আমি জানি এখানে কোনো জাস্টিস পাবো না।'
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, 'আমি উপাচার্য সাদেকা হালিম ম্যামের কাছে এই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হিসেবে বিচার চাইলাম। আর আমি ফাঁসি দিয়ে মরতেসি। আমার উপর দিয়ে কী গেলে আমার মতো নিজেকে এতো ভালোবাসে যে মানুষ সে মানুষ এমন কাজ করতে পারে।'
এ বিষয়ে আম্মান সিদ্দিকীর সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়েটা এক থেকে দেড় বছর আগে কয়েকজন সহপাঠিসহ প্রক্টর অফিসে আসে। সেসময় তৎকালীন প্রক্টর মোস্তফা কামালসহ আমরা কয়েকজন সহকারি প্রক্টর অফিসে ছিলাম। মেয়েটা ফেক আইডি ব্যবহার করে তার বন্ধুদের এসএমএস দিতো। এটা নিয়ে থানায় জিডি হয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়। পরে মেয়েটাও স্বীকার করে। এরপর তার পরিবারের লোকজন অনুরোধ করে জিডি তুলে নেওয়ার জন্য। তখন সকল প্রক্টরিয়াল টিম মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়, তিনমাস পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কোন ঝামেলা না হলে জিডি তুলে নেয়া হবে। আমি কখনো মেয়েটার সঙ্গে একা কথা বলিনি। সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেখলেও বোঝা যাবে। আপনারা ঘটনা তদন্ত করে দেখুন। আমি দোষী হলে শাস্তি দিন। দয়া করে আগেই আমাকে দোষী বানাবেন না। না হলে আমারও সুইসাইড করা লাগবে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। অবন্তিকা তার মৃত্যুর জন্য দায়ী হিসেবে প্রক্টরিয়াল টিমের একজন সদস্যের নাম উল্লেখ করেছে। ভিসি সাময়িকভাবে তাকে অব্যহতি প্রদানের মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
