মোবাইল গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিযোগিতা আইন জরুরী
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ মোবাইল গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিযোগিতা আইন ও এসএমপি প্রবিধানমালার যথাযথ প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছেন। তারা আরও বলেছেন, দেশে ১৯ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহকের স্বার্থে বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য অবিলম্বে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘টেলিযোগাযোগ খাতে বাজার প্রতিযোগিতা, মুঠোফোন গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মহাপরিচালক (সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খলিল-উর-রহমান বলেন, মার্কেটে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির জন্য কমিশন কাজ করবে। গ্রাহকদের অভিযোগ ও করণীয়বিষয়ক সুপারিশ কমিশনের কাছে উপস্থাপন করার জন্য মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির প্রতি তিনি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আগামী মাসে আমরা গণশুনানি অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছি। যা হবে ৮টি বিভাগে।
সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এক সময় সিটিসেল বাজারে মনোপলি ব্যবসা করত। এরপর গ্রামীণ টেলিকম ইনকামিং এবং আউটগোয়িং উভয়কলে ১০ টাকা করে চার্জ নিত। আবারও সেই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। একটি অপারেটর ৫২ শতাংশ বাজার দখল করে আছে আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ৩.৫ শতাংশ বাজার দখল করে আছে। এই বৈষম্যের কারণেই নতুন করে বিদেশি বিনিয়োগ বা দেশি বিনিয়োগ আসতে চাচ্ছে না টেলিকম খাতে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্স সেন্টার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সাবেক সচিব) ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ, গ্রামীণফোন লি: এর সিনিয়র ডিরেক্টর হোসেন সাদাত, রবি আজিয়াটার ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মো. ফজলে হুদা, বাংলালিংক লি: এর চিফ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স তৈমুর রহমান, ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ রেগুলেটরি অফিসার আব্বাস ফারুক। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাছের।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে এ খাতে গ্রাহকের ভিত্তিতে প্রথম অবস্থানে থাকা গ্রামীণফোনের মার্কেট শেয়ার ৪৩.২%, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রবি আজিয়াটার ৩০.৬%, বাংলালিংকের ২২.৮% এবং চতুর্থ অপারেটর টেলিটকের ৩.৪%। রেভিনিউয়ের দিক থেকে গ্রামীণফোনের বাজার হিস্যা প্রায় ৫০%।
বাজার প্রতিযোগিতা পরিমাপের আরেকটি সূচক কনসেন্ট্রেশন রেশিও। বর্তমানে মোবাইল সেবার বাজারের সিআর-৩ তথা প্রথম তিন অপারেটরের মার্কেট শেয়ারের সমষ্টি গ্রাহক ভিত্তিতে ৯৬.৬% আর রেভিনিউ ভিত্তিতে ৯৮.৫%। এই অবস্থায়, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে এই বাজার মনোপলির দিকে ধাবিত হবে।
সর্বশেষ অবস্থানে থাকা তিনটি অপারেটরের জন্য এই বাজারে টিকে থাকা তাই বেশ কঠিন উল্লেখ করা বক্তারা বলেন, একই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ খাতের বিনিয়োগও সংকটের মুখে পড়বে। এই অবস্থা একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির সংকেত দেয়, যেখানে বাজার প্রতিযোগিতা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
যার ফলশ্রুতিতে গ্রাহক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, উদ্ভাবনী সেবার প্রসার বাজারে হ্রাস পাবে এবং সার্বিকভাবে তা মোবাইল ভিত্তিক সেবার অর্থনৈতিক অবদানে নেতিবাচক প্রভাব রাখবে। এই পরিস্থিতি নিরসনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
