ক্যামেরা হাতে ক্যান্সার আক্রান্ত জয়ীতার লড়াই
পরিবারে ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন জয়ীতা। ক্লাস নাইন থেকে পরিবারে সঙ্গে ঢাকায় বসবাস তার। মাত্র ২০ বছর বয়সে পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন এক চিত্রগ্রাহককে। কিন্তু বিধিবাম! ভাগ্য তার সুপ্রসন্ন হয়নি। ৭ দিনের মাথায় বুঝতে পারলেন তিনি ভুল পথে হেঁটেছেন। এরপর সবকিছু সামলে নেবার চেষ্টায় পার করেলন এক যুগ।
জয়ীতা জানান, বিয়ের এক বছর পরই তার কোল আলো করে আসে ছেলে আদিত্য। কিন্তু সংসার করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। নিরুপায় হয়ে জয়ীতা নিজেই ডিভোর্স দেন স্বামীকে। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে শুরু হয় তার নতুন লড়াই। কিন্তু আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিলো জয়ীতার সামনে। ছেলের জন্মদিনে হাতে পেলেন ব্রেস্ট ক্যান্সারের রিপোর্ট।
ক্যামোথ্যারাপি নিতে নিতে জয়ীতা ক্লান্ত হয়ে পড়লেন।
জয়ীতা প্রথম থেকেই ছবি তুলতে পছন্দ করতেন। কিন্তু বিয়ে, সংসার, সন্তান, অতপর বিচ্ছেদ- সবমিলে যেনো বিধ্বস্ত এক জয়ীতা। তবে হাল ছাড়েননি এই নারী। নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে পথচলা শুরু করেন। ১২ বছর আগে যুক্ত হওয়া ছবি তোলার সংগঠনের সদস্যদের খুঁজে বের করলেন। এবার তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা। এরপর সফলতা তার পিছু ছাড়েনি।
এখন জয়ীতা নেটিজেনদের পরিচিত মুখ। জয়ীতা তার ছবির মাঝে নারীবাদকে তুলে ধরেন। জয়ীতা বাংলাদেশের প্রথম কোনো চিত্রগ্রাহক, যার ছবিতে নারী শক্তি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। নিজের শারীরিক জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে, ছেলে আদিত্য, এক পোষা কুকুর এবং ক্যামেরা নিয়েই কাটছে জয়ীতার জীবন। একইসঙ্গে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন ক্যান্সারের সাথে। জয়ীতা যেনো হাজারো অসহায় নারীর প্রতিচ্ছবি।
