মুয়াজ্জিন থেকে সফল উদ্যোক্তা হাফেজ আনিসুর রহমান
মাদ্রাসা পড়ুয়া স্বপ্নবাজ তরুণ মসজিদের মুয়াজ্জিন উদ্যোক্তা হাফেজ আনিসুর রহমান। মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনের চাকুরি ছেড়ে এখন আয় করছেন ৫০ হাজার টাকা। নিভৃত গ্রামে হেসে-খেলে বেড়ে ওঠা এ তরুন মুয়াজ্জিনের স্বপ্ন ছিল বড় আলেম হওয়ার। কিন্তু সবার সব স্বপ্নই তো আর পূরণ হয় না। মাঝে মাঝে বিফলও যায়। ফলে তিনিও স্বপ্নের পিছু ছুটতে ছুটতে মাঝপথে গিয়ে স্বপ্নটাকে হারিয়ে ফেলেছেন। তারপরও স্বপ্নবাজ এ তরুন মুয়াজ্জিন কখনো থেমে থাকেননি। সব সময় চেষ্টা করেছেন ভিন্ন কিছু করার। মসজিদের মুয়াজ্জিন হলেও তিনি এখন প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা। তার মতে, আত্মবিশ্বাস, সততা, কঠোর পরিশ্রম ও আল্লাহর ওপর ভরসা থাকলে জীবনে সাফল্য ধরা দেবেই।
স্বপ্নবাজ কর্মদ্যোমী হাফেজ আনিসুর রহমান ওঠে আসেন কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রাম থেকে। তার বাবা মাওলানা আবদুল হক প্রতিবন্ধী হলেও সন্তানদের মানুষ করতে চেষ্টা করেছেন। বাবার চেষ্টায় ৫ ছেলে-মেয়ের মধ্যে আনিস আজ একজন সফল উদ্যোক্তা।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সরজমিনে দেখা যায়, হাফেজ আনিসুর রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। শ্রমিকরাও সারিবদ্ধভাবে বসে আপন খেয়ালে কাজ করছেন।
জানা যায়, আনিস চৌদ্দগ্রাম জামেয়া ইসলামিয়া নারানকরা মাদ্রাসা থেকে ২০০৪ সালে হেফজ সম্পন্ন করেন। পরে বরিশাল হামিয়ুসসুন্নাহ কওমিয়া মাদ্রাসায় জামাতে নাহবেমীর পর্যন্ত পড়াশুনা অধ্যায়নরত অবস্থায় সংসারের বড় ছেলে হিসেবে জীবিকার তাগিদে শিক্ষকতা শুরু করেন চৌদ্দগ্রাম কাদঘর হাফেজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসায়। সেখানে তিন দুই বছর চাকুরি করেন। পরে কুমিল্লা কালেক্টর মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মনির হোসেনের হাত ধরে কুমিল্লা নগরীর আফতাব উদ্দিন মসজিদে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে মুয়াজ্জিনের চাকুরি করেন। ৪ মাস করার পর রাজগঞ্জ মসজিদে শুহাদায় মাত্র ৪ হাজার টাকার বেতনে দীর্ঘ ৯ বছর মুয়াজ্জিনের চাকুরি করেন। এ বেতনে সংসার চালাতে কষ্ট হওয়ায় তিনি সফল উদ্যোক্তা হবেন এমন স্বপ্ন বুনেন। একটি সেলাই মেশিন দিয়ে শুরু করে তিনি আল ইহসান পাঞ্জাবি টেইলার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এরই মধ্যে অন্যদেরও স্বপ্ন দেখিয়ে ১০ জন পুরুষ তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
তারই ছোট ভাই তাওহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের সংসারে খুবই অভাব ছিল। ভাই কোনো কূল-কিনারা করতে পারছিলো না। ভাই অনেক কষ্ট করে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। আমিও এখন কাজ শিখে ভাইয়ের এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। আমিও আর বেকার না থেকে কাজ করায় সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।
সফল তরুণ উদ্যোক্তা হাফেজ আনিসুর রহমান বলেন, জীবনে কোনো কিছুই সহজ পথে আসে না। প্রতিটি পথেই কাঁটা বিছানো থাকে। আর তা উপড়ে ফেলার সাহস যাদের আছে, কেবল তারাই জয়ী হবেন। আজ আমি সফল হয়েছি। বিভিন্ন দেশে অনেকে যাওয়া আগে আমার এখানে টেইলারের কাজের প্রশিক্ষণ নেয়। আমার কাজের সুনাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সবাই পাঞ্জাবি-জামা অর্ডার করে। এভাবে কাজ করে প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকে।
