পেঁপে পাতার রস খেলে কি আসলেই প্লাটিলেট বাড়ে
সংগৃহীত ছবি
দেশজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই নতুন করে অনেক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, আর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার নানা ঘরোয়া উপায় ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হলো পেঁপে পাতার রস। গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপে পাতার রসে থ্রম্বোসাইটিস (প্লাটিলেট) উৎপাদনে সাহায্যকারী উপাদান রয়েছে।
ডক্টর এস. কাঠিরেসানের মতে, ডেঙ্গুর ভাইরাস মূলত আমাদের রক্তের প্লাটিলেট কমিয়ে দেয়। সাধারণত প্লাটিলেটের জীবনকাল ৫-১০ দিন পর্যন্ত। এরপর আবার প্রয়োজন অনুসারে নতুন প্লাটিলেট উৎপাদন হয়। ডেঙ্গুর ভাইরাস যতদিন আমাদের শরীরে থাকে ততদিন শরীরে নতুন প্লাটিলেট উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে শরীরে প্লাটিলেট দ্রুত কমে যেতে শুরু করে।
অনেকের দাবি, পেঁপের রস এটি দ্রুত প্লাটিলেট বাড়ায়। কিন্তু এ দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কতটা শক্তিশালী? গবেষণা কী বলছে চলুন সেটিই জেনে নেওয়া যাক—
পেঁপে পাতা নিয়ে গবেষণায় যা জানা গেছে
পুষ্টিবিষয়ক গবেষণাপত্র নিউট্রিয়েন্টসে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, তাজা পেঁপে পাতার রস বা এর নির্যাস কিছু ক্ষেত্রে রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের ধারণা, পেঁপে পাতায় থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান প্লাটিলেট তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এএলওএক্স–১২ ও পিটিএএফআর জিনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
পেঁপে পাতায় কারপেইন, ফ্ল্যাভোনয়েড, কোয়ারসেটিন, ক্যামফেরল, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, প্যাপেইন ও কাইমোপ্যাপেইনের মতো বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও জৈব সক্রিয় উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিএমসি কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন ও প্লাস ওয়ানে প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে পেঁপে পাতার নির্যাস ব্যবহারের পর প্লাটিলেটের মাত্রা ৫০ হাজারের বেশি পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এসব গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
ফলে ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট বাড়াতে পেঁপে পাতার রস বা নির্যাস কতটা কার্যকর এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও বড় পরিসরে এবং শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন।
ডেঙ্গুতে কি পেঁপে পাতার রস যথেষ্ট
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গুর কোনো ওষুধ নয় এবং এটি কখনোই চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না। এটি সর্বোচ্চ সহায়ক একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ডেঙ্গু হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, পেঁপে পাতায় কিমোপাপিন ও পাপেইন নামে দুটি এনজাইম আছে। এই উপাদান দুটি প্লেটলেট উৎপাদন বাড়ায় এবং রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে।
এছাড়াও এগুলো ডেঙ্গুর কারণে লিভারের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে সেটা ঠিক হতে সহায়তা করে। এছাড়াও পেঁপে পাতায় আছে প্রচুর পরিমাণে কমপ্লেক্স ভিটামিন যা বোন ম্যারোকে প্রচুর পরিমাণে প্লেটলেট উৎপাদন করতে সহায়তা করে। ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর অনেক রোগীর প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া বলা হয়। প্লাটিলেট খুব কমে গেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
