‘জুম্বা’ ওজন কমানোর জাদুকরী উপায়
ওজন বেড়ে যাচ্ছে, কিংবা মুটিয়ে যাচ্ছেন? অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু কিছুতেই চিকন হতে পারছেন না? হ্যাঁ, এখন সহজেই এর সমাধান পাবেন। একটু ডায়েট আর নাচ করতে হবে। অবাক হচ্ছেন তো? সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ব্যায়াম করে যত সহজে ওজন কমানো যায়, তার চেয়ে আরও সহজ নাচ করে ওজন কমানো। এই নাচের ধরণকে বলে জুম্বা। বর্তমানে এটি অনেক জনপ্রিয় দলীয় শরীর চর্চার একটি।
গানের তালে তালে শরীর চর্চা হয়ে ওঠে অনেক আনন্দদায়ক। দীর্ঘস্থায়ী অনেক রোগের ঝুঁকি কমায় সাপ্তাহিক এই ব্যায়াম। তাই সহজে ওজন কমাতে এই পদ্ধতিকে কার্যকরী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি আমরা হচ্ছি তার অন্যতম একটি হচ্ছে মাত্রাতিরোক্ত শারীরিক ওজন। আর তার প্রধান কারণ হচ্ছে অনিয়মিত জীবনধারা। মানসিক শান্তির অন্যতম এক ধারক-বাহক হচ্ছে শারীরিক স্বাস্থ। কারণ শরীর ভালো তো মন ভালো । আর দেহ-মন সুস্থ রাখতে শরীর চর্চার কোনো বিকল্প নেই। শরীর ও মন উভয় ভালো রাখতে নাচ নাকি বেশি উপকারী, এমনটিই জানাচ্ছে নতুন গবেষণা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মানসিক স্বাস্থ্য ভালা রাখতে হলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের নিউরোট্রান্সমিটারগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ব্যায়াম এবং শারীরিক সক্রিয়তা সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
একা একা শরীর চর্চা করা অনেকসময় বিরক্তিকর, একঘেয়ে মনে হয় । এজন্য অনেকে আবার ধৈর্য্যও হারিয়ে ফেলেন। এর অন্যতম একটি সমাধান- জুম্বা নাচ। যারা খুব দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে চান জুম্বা তাদের জন্য। এটি একটি কার্ডিও ব্যায়াম যার কারণে শরীরের প্রায় সব অঙ্গ প্রতঙ্গই সমানভাবে নড়াচড়া করে । সাধারণত এক ঘন্টা সময় নিয়ে এই শরীর চর্চাটি করতে হয়। আর এসময় বার্ন হয় ৫০০-৯০০ ক্যালরি।

এর শুরুটা হয় ধীর গতিতে ওয়ার্মআপের মাধ্যমে। তারপর গানের গতি বৃদ্ধির সাথে সাথে নাচের গতিও বাড়তে থাকে, সাথে বাড়ে হৃদস্পন্দনও । বাড়তে থাকে ঘামের পরিমাণও। আর জুম্বার শেষের ১৫ মিনিট থাকে প্রশান্তির । ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে হৃদস্পন্দন গতি। কারণ হুট করে নাচের গতি কমিয়ে দিলে ক্ষতি হতে পারে হৃদযন্ত্রের, এমনটাই বলছেন প্রশিক্ষকরা।
এই নাচের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, যেকোন বয়সের মানুষই অংশ নিতে পারে । যা দিন শেষে শরীরের পাশাপাশি মানসিক শান্তিও বয়ে আনে । হাঁটুর ব্যাথা থেকে শুরু করে শরীরের সব ধরনের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।
টানা একঘন্টা ওয়ার্কআউটের পর শরীরের যে পরিমাণ ঘাম বের হয় তাতে করে শরীরের বিষাক্ত টক্সিন বের করে ত্বকের জেল্লা বাড়ায় এবং মানসিক অবসাদ কমাতে অনেক সাহায্য করে। শারীরিক ও মানসিক উন্নতি ঘটাতে এই ব্যায়ামটিকেই জোড়ালোভাবে সমর্থন করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
