সারভাইভার’স ভয়েস সামিটে ‘মনবার্তা’ অ্যাপ ও ২৪/৭ হেল্পলাইনের শুভ উদ্বোধন
ছবি: সংগৃহীত
দেশের তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘সারভাইভার’স ভয়েস সামিট ২০২৬’। মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘সারভাইভার্স পাথ’ ও ‘এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার জন্য ‘মনবার্তা অ্যাপ’ এবং একটি ২৪/৭ মানসিক স্বাস্থ্য হেল্পলাইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।
সারভাইভার্স পাথের চেয়ারম্যান মুনাজিয়া স্নিগ্ধা মুন জানান, বর্তমানে তরুণ সমাজ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, সাইবার বুলিং, ট্রমা এবং সামাজিক চাপের মতো নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব বিষয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও সচেতনতার অভাবে উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ সীমিত। এই বাস্তবতায় তরুণ, পেশাজীবী, অ্যাডভোকেট ও সারভাইভারদের জন্য একটি নিরাপদ ও ক্ষমতায়নমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতেই সামিটের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“Breaking Silence, Building Hope, Empowering Every Voice”।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এমপি। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ এবং চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারভাইভার্স পাথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুনজিয়া স্নিগ্ধা মুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. এসকে ফরিদ আহমেদ এবং ফাহাদ হোসেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ওয়েলবিং, যুব নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং নেটওয়ার্কিং নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সামিটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সার্ভাইভার ক্রনিকলস’ শীর্ষক বিশেষ সেশন, যেখানে কুসংস্কারমুক্ত আলোচনা ও ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার গল্প তুলে ধরা হয়।
এছাড়া ‘সারভাইভার্স ম্যানিফেস্টো প্রণয়ন’ শীর্ষক একটি ব্রেকআউট সেশনেও তরুণদের নীতিগত দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। যুব উন্নয়ন প্যানেলে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন আব্দুল কাইয়ুম, শেখ রিফাদ মাহমুদ, মুনাজিয়া স্নিগ্ধা মুন এবং মেহেদী হাসান। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা।
মানসিক স্বাস্থ্য প্যানেলে আলোচনা করেন বিশিষ্ট সাইকোলজিস্ট ড. আতিকুল হক মজুমদার, গবেষক ও পলিসি অ্যানালিস্ট মাহাদি-উল-মোর্শেদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মওদুদুল হাসান এবং ডা. এ. কে. এম. আহসান হাবিব নাফি। সঞ্চালনায় ছিলেন ড. আল আমিন।
সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুনজিয়া স্নিগ্ধা মুন আরো বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা ভাঙতে এবং তরুণদের জন্য নিরাপদ সহায়তার জায়গা তৈরি করতেই ‘মনবার্তা’ যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি শুধু একটি অ্যাপ নয়, বরং সহমর্মিতা, মানসিক সহায়তা ও আশার একটি প্ল্যাটফর্ম।”
আয়োজক প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের প্রত্যাশা, এই সামিট তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং সারভাইভারদের অধিকার রক্ষায় একটি দীর্ঘমেয়াদি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সামিট বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশীদার ও সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল। স্পন্সর হিসেবে ছিল সিনোভিয়া (Synovia) এবং পার্লে অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস। ফুড পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করেছে গো গ্রীন রেস্টুরেন্ট। লার্নিং পার্টনার হিসেবে ছিল ফাহাদের টিউটোরিয়াল। এছাড়া ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল ইডিসি (Entrepreneurship Development Club), কিডস সেফ ফাউন্ডেশন, Hello-02, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইএনএস এবং ইয়াং ব্লাড অ্যাসোসিয়েশন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এসব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সারভাইভারদের সহায়তায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।
