ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার মামলা, মেরিন সেনা মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিক্ষোভ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল) শহরের লিটল টোকিও এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে আতশবাজির মতো বস্তু নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নেয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা।
এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম অভিযোগ করেছেন, কোনও ধরনের আলোচনায় না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন রাজ্যের অনুমতি ছাড়াই লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছে। গভর্নরের পক্ষে রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা একে সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেন।
রব বন্টা বলেন, “এখানে কোনও বিদ্রোহ পরিস্থিতি নেই। প্রেসিডেন্ট নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। তিনি গভর্নরের অনুমতি ছাড়াই ফেডারেল বাহিনী পাঠিয়ে সীমারেখা অতিক্রম করেছেন।”
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে শহরটিতে অতিরিক্ত ২ হাজার ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে প্রায় ৭০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যারা ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া অভিবাসন সংস্থাগুলোর কাজে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারের হুমকিও এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে। শনিবার ট্রাম্পের বর্ডার জার টম হুমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কেউ অভিবাসন সংস্থার কাজে বাধা দিলে, তাকে গ্রেফতার করা হবে।”
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আমি টমের জায়গায় থাকলে একই কাজ করতাম।”
লস অ্যাঞ্জেলেসের বাইরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ও স্যান্টা আনাতেও বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক, জর্জিয়ার অ্যাটলান্টা, টেক্সাসের ডালাস এবং কেন্টাকিতেও অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিউ ইয়র্কে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে সরকারি ভবনের সামনে গাড়ি আটকে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত আরও ঘনীভূত হচ্ছে, যেখানে একটি অভিবাসন নীতি প্রশ্নে গড়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবাদের নতুন তরঙ্গ।
