ট্রাম্পের শুল্কে দমবন্ধ বিশ্ব অর্থনীতি: প্রবৃদ্ধির গতি কমছে
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শুল্ক যুদ্ধ’ এবার সরাসরি ধাক্কা দিচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিকে। শীর্ষ অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে আসবে ২.৯ শতাংশে—যা আগের পূর্বাভাস ৩.১ শতাংশের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ওইসিডি বলছে, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাণিজ্য বাধা বেড়েছে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’। এতে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ধীরগতির অর্থনৈতিক অগ্রগতি টের পাওয়া যাবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই নানা দেশে শুল্ক আরোপ শুরু করেন। তবে এই পদক্ষেপ অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে বহুগুণ।
ওইসিডির প্রধান অর্থনীতিবিদ আলভারো পেরেইরা বলেন, “আমরা প্রায় সব দেশের জন্যই প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী পূর্বাভাস দিচ্ছি। আগের তুলনায় কর্মসংস্থানও কম হবে।”
সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ২.২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৬ শতাংশ করেছে। এমনকি ২০২৬ সালেও দেশটির অর্থনীতি আরও মন্থর হবে বলে সতর্ক করেছে তারা।
এদিকে, মূল্যস্ফীতির দিক থেকে ঝুঁকির মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন কিছু বলছে।
মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটির অর্থনীতি বার্ষিক ০.২ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছে—২০২২ সালের পর প্রথমবার।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যও পিছিয়ে পড়ছে। মার্চে দেওয়া পূর্বাভাসে যেখানে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১.৪ শতাংশ, সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৩ শতাংশে। ২০২৬ সালেও পূর্বাভাস কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।
ওইসিডি বলছে, শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনাই নয়, যুক্তরাজ্য নিজস্ব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আছে। চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভসকে ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ডের কল্যাণ খাত কাটছাঁট করে ১৪ বিলিয়ন পাউন্ডের ব্যবস্থাপনা করতে হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে তিনি ব্যয়ের নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাপ থাকায় অন্যান্য বিভাগে কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
অর্থনীতির শ্লথ গতি আর শুল্ক হুমকি সত্ত্বেও মার্কিন শেয়ারবাজারে দেখা গেছে আশার আলো।
এএফপি জানায়, হতাশাজনক শুরু কাটিয়ে সোমবার তিনটি প্রধান সূচকই বেড়ে বন্ধ হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের স্টিল শুল্ক দ্বিগুণ করার হুমকি উপেক্ষা করে এগিয়ে গেছেন।
বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো কুরকাফাস বলেন, “এনভিদিয়ার আয়ের ইতিবাচক প্রভাব আমরা বাজারে স্পষ্টভাবে দেখছি। আমরা হয়তো সবচেয়ে খারাপ সময়টা পেরিয়ে যাচ্ছি।”
