পেহেলগাম-কাণ্ডে মোদিকে কোণঠাসা করতে বিরোধীদের চিঠি
পেহেলগামের রক্তাক্ত হামলা আর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতের রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ ছুঁয়েছে চূড়ায়। এবার একজোট হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চাপে ফেলতে মাঠে নামল দেশের ১৬টি বিরোধী দল। মঙ্গলবার দিল্লিতে বৈঠক করে এই দলগুলো সরাসরি মোদিকে চিঠি দিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পেহেলগাম ও অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা চান বিরোধীরা। জনগণের সামনে প্রশ্ন ও জবাব হোক—এটাই তাঁদের মূল দাবি।
তবে এই যৌথ উদ্যোগ থেকে অনুপস্থিত আম আদমি পার্টি (আপ)। তৃণমূলের ডেরেক ও'ব্রায়ান জানান, আপ-ও একই দাবি জানিয়ে আগামীকাল আলাদা করে চিঠি দেবে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ ও দীপেন্দ্র হুডা, তৃণমূলের ডেরেক, সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব, আরজেডির মনোজ ঝা, শিবসেনা (উদ্ধব) শাখার সঞ্জয় রাউতসহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা।
ডিএমকে ও এনসিপি এই বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও বিভিন্ন কারণে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট। ডিএমকের প্রতিষ্ঠাতা করুণানিধির জন্মদিন থাকায় দলটির কোনো প্রতিনিধি ছিল না। আর এনসিপি এই মুহূর্তে বিশেষ অধিবেশন চায় না।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জুনে বিশেষ অধিবেশনের কোনো পরিকল্পনা নেই। জুলাইয়ে বর্ষাকালীন অধিবেশনেই সব আলোচনা হোক, এমনটাই চায় কেন্দ্র। তবে বিরোধীদের চাপ বাড়লেও প্রধানমন্ত্রী এখনও নীরব।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকার এই সময় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকলে বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। কারণ, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে—যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়া, কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত ইত্যাদি।
এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে—৫৯ জন সাংসদকে নিয়ে ৭টি দল বিদেশ সফরে পাঠানো হয়েছে। ৩৩টি দেশে ঘুরে রাষ্ট্রীয় বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা। সরকার মনে করে, এতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ঐক্য দেখানো যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগামী সপ্তাহে এই প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। পরে প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সরকারি একটি সূত্র বলছে, এই সফরকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করা হবে।
শেষদিকে, সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহান তিন সপ্তাহ পর প্রথম স্বীকার করেন, অপারেশন সিঁদুরে ভারত একটি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। সিঙ্গাপুরে এক আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই তথ্য দেন।
পরে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “যুদ্ধ হোক বা ক্রিকেট ম্যাচ—শেষে জয়টাই বড় কথা। কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও বিজয়ই মুখ্য।”
