“হিন্দুস্তানের ফিতনা” মোকাবেলায় প্রস্তুত পাক সেনাবাহিনী
পাকিস্তানের জর্জরিত বেলুচিস্তান ইস্যুতে এবার সরাসরি কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠান থেকে আইএসপিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আহমদ শরিফ চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় জানালেন—বেলুচিস্তান কখনোই পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। এটি পাকিস্তানের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং থাকবে সবসময়।
‘হিলাল টকস’ নামে আয়োজিত এক আলোচনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ২ হাজার শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেন সেনা মুখপাত্র। তার অভিযোগ, ভারতের মদতে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাস ও অস্থিরতা ছড়াচ্ছে একটি গোষ্ঠী—বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তিনি বলেন, “বিএলএ-এর নেতৃত্ব এখন ভারতে, আর এর তহবিলও আসছে সরাসরি সেখান থেকে। এটি একপ্রকার হিন্দুস্তানের ফিতনা।”
চৌধুরীর মতে, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী কেবল পাকিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই হুমকি। বেলুচিস্তানের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তার দাবি, একদিন এই প্রদেশই হবে পাকিস্তানের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঞ্চল।
সেনাবাহিনী ও জনগণের সম্পর্ক প্রসঙ্গে আইএসপিআর প্রধান বলেন, “সেনাবাহিনী জনগণ থেকেই তৈরি—এই সম্পর্ক চিরস্থায়ী এবং বিশ্বাসভিত্তিক।”
এদিকে, একই ইস্যুতে শনিবার কোয়েটায় এক বিশাল জির্গায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার মতে, যারা উগ্রপন্থার পথে গেছে, তাদের সমাজে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব বলে মত দেন তিনি।
শাহবাজ জানান, করাচি-কোয়েটা মহাসড়ককে যেভাবে 'রক্তাক্ত সড়ক' বলা হচ্ছে, তা বদলাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সংস্কারের জন্য। সঙ্গে ঘোষণা করেন, পরবর্তী উন্নয়ন বাজেটে বেলুচিস্তানের জন্য বরাদ্দ থাকবে ২৫ শতাংশ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হবে ল্যাপটপ।
তবে সরকার ও সেনাবাহিনীর এসব বক্তব্যের বাইরে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো তুলে ধরছে এক ভিন্ন চিত্র। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে—বেলুচিস্তানে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং রাজনৈতিক দমন চলছে নিয়মিত।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার হলেও বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত—চরম বৈষম্য, নিরাপত্তা বাহিনীর দমননীতি এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য-অবকাঠামোয় পিছিয়ে থাকা এই প্রদেশে তৈরি করেছে গভীর অসন্তোষ, যার সুযোগ নিচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
