ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানার মনোনয়ন দাখিল
সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে সরাইল উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিজে উপস্থিত হয়ে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ‘হাঁস’ প্রতীক প্রত্যাশা করে জমা দেওয়া এই মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সমর্থক ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, যাদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী কার্যালয়ে বেশ সরব পরিবেশ তৈরি হয়।
এর আগে একই আসনে বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব মনোনয়নপত্র জমা দেন। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এখন থেকেই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।
মনোনয়ন দাখিল শেষে প্রতিক্রিয়ায় রুমিন ফারহানা বলেন, আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের বোঝার বাইরে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা একসময় আওয়ামী লীগের জোয়ারের বিপক্ষে নির্বাচন করেছিলেন, আর এখন ভাগ্যের পরিহাসে তাকে বিএনপির জোয়ারের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করতে হচ্ছে। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন এবং জানান, তার এলাকার জনগণ ও কর্মী-সমর্থকরা যে আস্থা রেখেছেন, তা যেন তিনি রক্ষা করতে পারেন—এই চেষ্টাই থাকবে তার মূল লক্ষ্য।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) ও রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক)-এর মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও জোটগতভাবে বিএনপি এই আসনে জুনায়েদ আল হাবিবকে প্রার্থী করেছে, তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ প্রকাশ্যেই রুমিন ফারহানার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। ইতোমধ্যেই উভয় পক্ষের প্রচার প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
