ইস্তানবুলে ফের রাশিয়া-ইউক্রেন বৈঠক, যুদ্ধবিরতিতে তৃতীয় পক্ষের নজরদারির প্রস্তাব কিয়েভের
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচনার টেবিলে এখনও একটুখানি আশার আলো খুঁজছে বিশ্ব। ইস্তানবুলে ২ জুন হতে যাচ্ছে নতুন বৈঠক। তার আগেই ইউক্রেন পাঠিয়েছে যুদ্ধবিরতির শর্ত সংবলিত একটি মেমোরেন্ডাম—যেখানে প্রস্তাব রয়েছে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে যুদ্ধবিরতি, আর সেই বিরতির নজরদারি করবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইউক্রেনের ওই নথি তৈরি হয়েছে সর্বশেষ ১৬ মে’র বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। ওই বৈঠকে দুই পক্ষই একে অপরের কাছ থেকে ১,০০০ যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেয়—যা এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ বন্দি বিনিময়।
নতুন মেমোরেন্ডাম নিয়ে কিয়েভের উদ্যোগ থাকলেও, মস্কো এখনো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন—২ জুন ফের ইস্তানবুলেই বসতে চায় তারা।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক গোপন সূত্র জানিয়েছে—ইউক্রেনের মেমোরেন্ডামে বলা হয়েছে, “স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তার ওপর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।”
এর আগেও কিয়েভ বলেছিল, তারা কমপক্ষে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি ছাড়া আলোচনায় বসবে না। তবে নতুন নথিতে সেই সময়সীমার উল্লেখ নেই।
মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইউক্রেন এই বিরতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের বাহিনী পুনর্গঠন করবে—যা প্রকৃত শান্তির পথে বাধা। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন—পুরোপুরি যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেনকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে ২০২২ সালে গণভোটে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়া অঞ্চলগুলো থেকে, বন্ধ করতে হবে বিদেশি অস্ত্র গ্রহণ, আর থামাতে হবে সেনা মোতায়েন।
শুক্রবার ইউক্রেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিগা অভিযোগ করেন, রাশিয়া তাদের মেমোরেন্ডাম প্রকাশ না করে আলোচনার পথ রুদ্ধ করছে।
জবাবে, রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন—রাশিয়ার মেমোরেন্ডাম প্রকাশ করা হবে না। আর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভের এই বিষয়ে চাপ প্রয়োগকে ‘অগঠনমূলক’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানান—মস্কোর নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শান্তি প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা, একটি সময়সীমা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির রূপরেখা।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেনবিষয়ক বিশেষ দূত কিথ কেলগ জানান, কিয়েভের মেমোরেন্ডামের ২২টি শর্ত তিনি পড়েছেন, এবং সেগুলোকে “যথেষ্ট ভালো” ও “যুক্তিসঙ্গত” বলেই মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য, রাশিয়া অংশ নিক বা না নিক—ইউক্রেনের উচিত ২ জুনের বৈঠকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
এই মুহূর্তে, ইস্তানবুলের পরবর্তী বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে টানটান উত্তেজনা। একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, অন্যদিকে আস্থার ঘাটতি—বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে, ২ জুনের টেবিলে কী সিদ্ধান্ত উঠে আসে।
