ইরানে সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি: প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। একই সঙ্গে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের পক্ষ নিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) এক অনুষ্ঠানে কাৎজ বলেন, ইরান আবারও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। পাশাপাশি দেশটি এমন আরও কিছু তৎপরতা চালাচ্ছে, যা ইসরায়েলের জন্য গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
কাৎজের ভাষায়, ইরানের ক্ষেত্রে আমাদের অভিযান এখনো শেষ হয়নি। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা আবার শুরু করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তারা আরও কিছু গুরুতর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে প্রকৃত বিপদের মুখে ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতে লেবাননের হিজবুল্লাহ অংশ নিলে তাদেরও বড় ধরনের সামরিক আঘাতের মুখে পড়তে হবে। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের দখলে থাকা নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানান তিনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। গত বছর থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের দুটি সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হয়েছে ইরান। তবে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে নেতানিয়াহু তার ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষও ভোটারদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ শুক্রবার জানিয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর দেশটির নির্বাচনের আগের রাতে নেতানিয়াহু ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি জানতে পেরে তা থামিয়ে দেয় বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ খবর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সমর্থনপুষ্ট হামাসের ওই হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল। পরে ইরানের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা শুরু করলে লেবাননেও অভিযান চালায় দেশটি।
এছাড়া ২০২৪ সালে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটির ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষ ইসরায়েল সাবেক যুদ্ধবিরতি রেখা অতিক্রম করে সিরিয়ার একটি অংশ দখলে নেয়।
কাৎজ বলেন, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলো থেকে আমরা সরে আসব না। সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহ যদি ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের অত্যন্ত কঠোর আঘাত সহ্য করতে হবে।
নির্বাচনে ধাক্কা, নেতানিয়াহুর ওপর চাপ
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ক্ষতির মুখে পড়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইজেনকোট ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে বলেছেন, নেতানিয়াহুর হাতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার ম্যান্ডেট নেই। প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক প্রয়োজন’ মেটাতে সেনাবাহিনীর যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে সাবেক এই সেনাপ্রধান নেতানিয়াহুর যুদ্ধসংক্রান্ত বেশির ভাগ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে এসেছেন।
রোববার ১৯৫৬ সালে মিশরে হামলায় নিহত ইসরায়েলি সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ। সেখানে তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে তর্ক হতে পারে, মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যখন ঝুঁকির মুখে, তখন নিজেদের বিরোধের ঊর্ধ্বে ওঠার সক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে।
সূত্র: এএফপি
