যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ভোট শেষ, শুরু গণনা; কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। শুরু হয়েছে ভোট গণনা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে এই নির্বাচন। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই নির্বাচন। ইতোমধ্যে কেন্টাকি ও ইন্ডিয়ানার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটকেন্দ্রও বন্ধ হচ্ছে। ভোট গণনা শেষে বিভিন্ন আসনের ফলাফল আসতে শুরু করবে।
এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে এবং ১০০ আসনের সিনেটের ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে। ডেমোক্র্যাটরা পর্যাপ্ত আসনে জয় পেয়ে এই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চায়। তারা সফল হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার সময়সূচিতে পার্থক্য রয়েছে। ডাকযোগে ভোটের ব্যালট যাচাই, আগাম ভোট গণনা এবং ব্যালট প্রক্রিয়াকরণের ভিন্ন নিয়মের কারণে কোথাও দ্রুত, আবার কোথাও ফল প্রকাশে বেশি সময় লাগতে পারে।
এদিকে নির্বাচনের দিন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডায় বন্যার কারণে কিছু ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে হয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সব অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনি পর্যবেক্ষক থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। নির্বাচনের আগে আগাম ভোট পড়েছে প্রায় ছয় কোটি।
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও। ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারে তিনি রসিকতা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ তাঁর ওপর বিরক্ত হলে ইসরায়েলে চলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে চান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর একটি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় চলতি বছর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে চার বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইসরায়েলের এই সহায়তার প্রয়োজন নেই।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টনের লড়াই নয়; ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও তাঁর প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
