ইরান ইস্যুতে চাপে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, ক্ষমতা হারানোর শঙ্কা দুই নেতার
সংগৃহীত ছবি
ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। বিরোধী নেতা গাদি আইসেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলোর জোট পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। সরকার গঠনের জন্য তাকে হয় আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে, নয়তো বিরোধী জোটের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। কিন্তু তার জোটের উগ্র ডানপন্থি শরিকরা আরব ও বামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে রাজি নয়।
বিশেষ করে ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন দল সাতটি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের ধারণা, বিরোধী নেতা আইসেনকোট আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রাম পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নেতানিয়াহু বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।
রয়টার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের প্রতি ৪৪ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটারের সমর্থন দেখা গেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির উচ্চ দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।
সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কঠিন সময় পার করছেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। ইসরাইলে সরকার গঠনের অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন—দুই ঘটনাই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন ও রয়টার্স।
